বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিজ্ঞ এই কোচের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ডুলির ফুটবলার ও কোচ হিসেবে দীর্ঘ ৪৩ বছরের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার রয়েছে। কিন্তু এই থমাস ডুলি আসলে কে? বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত এক নাম— খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে কোচিং দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ সাফল্য।থমাস ডুলির জন্ম জার্মানিতে হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ও সেন্ট্রাল ব্যাক হিসেবে খেলা ডুলি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপিয়েছেন। ১৯৯৪ সালে নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি ছিলেন অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। আর চার বছর পরে, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে তিনি বহন করেন যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড (ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব)। বুন্দেসলিগার ক্লাব কাইজারস্লটার্নের হয়ে জার্মান লিগ ও কাপ জেতারও রেকর্ড রয়েছে তার।মাঠ ছেড়ে কোচিংয়েও সমান দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বখ্যাত ও কিংবদন্তি কোচ ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রধান কোচ হিসেবে এর আগে তিনি ফিলিপাইন জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। ফিলিপাইনে গিয়ে রীতিমতো ইতিহাস লিখেছেন। তার অধীনেই ফিলিপাইন দল অপরাজিত থেকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জন করে এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়।বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে তার অধীনে খেলা চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পায় দল। দল গড়ে তোলার বিশেষ দক্ষতা এবং এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীর ধারণা নিয়েই এবার বাংলাদেশে আসছেন থমাস ডুলি। এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বাফুফে।বাফুফে জানায়, বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি দল গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দলের ফলাফল উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে থমাস ডুলি তার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। তরুণ ফুটবলারদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল করে তোলাই তার লক্ষ্য।বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে থমাস ডুলি অন্যতম অভিজ্ঞ ও সফল কোচ হিসেবে জায়গা করে নেবেন বলে আশা করছে বাফুফে। বিশ্বকাপ খেলা ও অধিনায়কের অভিজ্ঞতা, ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ এবং ফিলিপাইন ও গায়ানাকে সাফল্য দেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিশা দেখাতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে ডুলি কীভাবে দল গঠন করেন এবং আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের ফলাফল কেমন হয়।