৫৬ বছর বয়সেও অপরাজেয় রফিক, সাবেক ক্রিকেটারদের ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা
কাগজে-কলমে বয়স ৫৬ হতে চললো। বাস্তবে হয়তো ৬০ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু বয়স যেন তার ব্যাটিংয়ের তরুণ্যকে স্পর্শ করতে পারেনি। স্বাধীনতা দিবসে সাবেক ক্রিকেটারদের মিরপুরের মাঠে আয়োজিত মিলনমেলায় দাপুটে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ রফিক।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সাবেক ক্রিকেটারদের দুই দলে ভাগ করা হয় লাল ও সবুজ। মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ প্রতিবছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাজানো হয়েছিল সাবেক তারকাদের মিলনমেলা।ব্যাট হাতে রফিকের তাণ্ডবএক সময়ের বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে পরিচিত হলেও এদিন ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন আগ্রাসী রূপ। লাল দলের হয়ে মাত্র ২৪ বলে চারটি চার ও চারটি ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন রফিক। তার এই ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে লাল দল বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়।বল হাতেও দুর্দান্ত রফিকশুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও রফিক ছিলেন দুর্দান্ত। ৩.২ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে শিকার করেন চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সবুজ দলের বিপক্ষে জয় পায় লাল দল।বিশাল ব্যবধানে জয়লাল দল ৫ উইকেটে ২১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। জবাবে সবুজ দল মাত্র ৯০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফলে ১২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় লাল দল। টানা চার আসরে রফিক তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে ম্যাচের সেরার পুরস্কার বাগিয়ে নেন।স্মৃতির মাঠে ফিরে পুরনো দিনের স্বাদবাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একাদশে ছিলেন মোহাম্মদ রফিক। সেটিই ছিল তার একমাত্র আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি উপস্থিতি। তবে সময় বদলালেও নিজের সামর্থ্য যে একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি, সেটার প্রমাণ আবারও দিলেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।বয়সের ভারে নুয়ে পড়েননি এই প্রবীণ ক্রিকেটার। ২০-২৫ বছর আগে যেভাবে ব্যাট চালাতেন, এখনও যদি সেভাবে চালাতে পারেন তাহলে অবাক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন সাবেক ক্রিকেটারদের স্মৃতির মাঠে ফিরিয়ে এনে দিয়েছে পুরনো দিনের স্বাদ। রফিকের মতো প্রবীণ তারকারা প্রমাণ করলেন, ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও দক্ষতা বয়সের ঊর্ধ্বে।