আবারও বাজারে ছাড়া হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত টাকার নোট
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে নতুন নকশার নোট ছাপানোর উদ্যোগ নিলেও বাজারে এখন পুরনো ডিজাইনের নোটই ছাড়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে নতুন নকশার নোট চালু হলেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিলগালা রাখা পুরনো নোট বাজারে ছাড়ছে।এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, “২০২৫ সালের ঈদুল আযহার সময় পুরনো ছাপের নোট বিতরণ বন্ধ ছিল। তারপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সেটা উদ্ধার করা হয়েছিল। তারপরই যথারীতি চলমান রাখি। যেভাবে বিতরণ করা যায় সেই সময় থেকেই করছি।”বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নতুন নকশার নোট ছাপাতে গিয়ে চাহিদার সঙ্গে গতি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু পুরনো নোট নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই ঘাটতি মেটাতে পর্যায়ক্রমে পুরনো ডিজাইনের নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে।২০২৫ সালের জুনে ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নোটের নতুন নকশা চালু করে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন এসব নোটে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির স্থানে স্থাপত্য নিদর্শন ও শহীদ মিনার সংযোজন করা হয় ।প্রাথমিকভাবে নতুন নকশার নোট চালু হলেও পুরনো নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও সরবরাহ সংকটে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে কাগজ ও কালি সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, নোটের কাগজ সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় নতুন নোট ছাপানোর গতি কমেছে। বিশেষ করে ২০০ টাকার নোট ছাপানোর জন্য আনা কিছু কাগজ মানসম্মত না হওয়ায় ফেরত পাঠাতে হয়েছে । নোটের কাগজ ও কালি বিশ্বে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে, ফলে সরবরাহ সীমিত এবং দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “নতুন নোট সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। কাগজ সরবরাহে সমস্যার কারণে নতুন নোট ছাপানোর গতি কমে গেছে। যেহেতু পুরনো নোট নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই চাহিদা মেটাতে সেগুলো বাজারে ছাড়া হচ্ছে ।”পুরনো নকশার নোট বাজারে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও মলিন নোটের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০, ২০ ও ১০০ টাকার নোটের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এসব নোট নিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মীরা ।ব্যাংকে গেলেও একদিনে সব টাকা বদলানো যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন নোট সরবরাহ খুবই সীমিত হওয়ায় একবারে সব ছেঁড়া নোট বদলে দিলে বাজারে নগদ টাকার সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা ।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরকার ধীরে ধীরে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকেই বলেছেন যে ক্যাশলেস বাংলাদেশ একটি জাতীয় লক্ষ্য এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে ।তবে বর্তমান বাস্তবতায় নগদ লেনদেন এখনো ব্যাপক। কাগজের ঘাটতির কারণে আগের মতো বড় বান্ডেলে নতুন নোট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না; সীমিত পরিমাণে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।নতুন নকশার নোটে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক স্থান পাচ্ছে। নতুন ২০ টাকার নোটে অমর একুশের প্রতীক শহীদ মিনার, ৫০ টাকার নোটে মায়ানমারের সোনারগাঁওয়ের গোয়ালদি মন্দিরের আদলে তৈরি স্থাপত্য, ১০০ টাকার নোটে সোনারগাঁয়ের লোকজ শিল্পের নিদর্শন এবং ১০০০ টাকার নোটে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের স্থাপত্যের প্রতিচ্ছবি যুক্ত করা হয় ।কাগজ ও কালি সংকট কাটিয়ে পুরোপুরি নতুন নকশার নোট চালু করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।