শিশুদের যৌন নির্যাতন করা নেতানিয়াহুর সাবেক নিরাপত্তা প্রধান গ্রেপ্তার
প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের যৌন নির্যাতন এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংগ্রহের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাবেক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রধান ও ওয়াশিংটন পুলিশের লেফটেন্যান্ট ম্যাথু মাহলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে গোপন গোয়েন্দা অভিযানে তাকে আটক করা হয়। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা তাকে ‘ভেড়ার চামড়ায় নেকড়ে’ বলে উল্লেখ করেছেন।তদন্তকারীরা জানান, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মাহল এক নাবালকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করছিলেন।অনলাইন কক্ষে গোয়েন্দার ফাঁদকর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৭ বছর বয়সি মাহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘রেডিট’ ব্যবহার করে হারফোর্ড কাউন্টি শেরিফ অফিসের একজন আন্ডারকভার গোয়েন্দার সঙ্গে এক মাস ধরে যোগাযোগ করেন। ওই গোয়েন্দা অনলাইনে নিজেকে ‘ন্যাট’ নামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হিসেবে পরিচয় দেন।আদালতের নথি অনুযায়ী, কথোপকথনের সময় আন্ডারকভার কর্মকর্তা বারবার ওই কিশোরের বয়স ও অনভিজ্ঞতার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। মাহল একাধিকবার স্বীকার করেছিলেন যে তিনি একজন নাবালকের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপরও তিনি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ও ছবি পাঠানো চালিয়ে যান।যৌনতার স্থানে গিয়েই ধরাঅভিযোগপত্রে বলা হয়, মাহল পরে হারফোর্ড কাউন্টিতে গিয়ে ওই কিশোরের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পরপরই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে গ্রেফতার করেন।আদালতের নথিতে আরও বলা হয়, কথোপকথনের সময় মাহল নিজেই তার পুলিশি পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘বিপদে’ পড়তে পারেন কিন্তু ওই কিশোরের কিছু হবে না, কারণ সে ‘একজন শিশু’ এবং তার নিজের ‘সবকিছু হারানোর’ ঝুঁকি রয়েছে।প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছেমেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর মাহলকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তার পুলিশি ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগ এই মামলার পৃথক তদন্ত শুরু করবে।এক বিবৃতিতে এমপিডি বলেছে, এই মামলার অভিযোগগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিভাগের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। জনস্বার্থে সব সত্য উদঘাটনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।জামিন মেলেনিকর্তৃপক্ষ মাহলের বিরুদ্ধে নাবালককে যৌন প্রলোভন দেখানো এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগ এনেছে। জামিন শুনানিতে বিচারক তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মাহল ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডিসি ফেটার্নাল অর্ডার অব পুলিশের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।যৌন সহিংসতার শিকারদের পক্ষে কাজ করা অধিকারকর্মীরা বলেছেন, এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল-জাজিরা, রয়টার্স।