গণবার্তা

ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা শুরু

চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে লেবানন। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে দেশ দুটির রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। খবর আল জাজিরার।বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ইসরায়েলের ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের নাদা হামাদেহ মাওয়াদকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসবেন তিনি।এই বৈঠকের লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।দুই পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানিলেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলেও হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।গত এক মাসে হিজবুল্লাহ প্রায় ১ হাজার ৮০০ রকেট ছোড়ে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের হামলায় শত শত স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বৈরুতে এক হামলায় হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষ কমান্ডারও নিহত হন।হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থানএদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অন্যতম নেতা নাঈম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে আসন্ন বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা জোরদারের কারণে এই ধরনের প্রচেষ্টাকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।গতকাল সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে কাশেম লেবানন সরকারকে পরিকল্পিত আলোচনায় অংশ না নিয়ে ‘ঐতিহাসিক ও বীরত্বপূর্ণ অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান।নাঈম কাশেম বলেন, ‘এই আলোচনা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে বলেছে আলোচনার লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। তাহলে এমন আলোচনায় কীভাবে যাওয়া যায়, যার উদ্দেশ্য আগেই পরিষ্কার।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্রাম নেব না, থামব না বা আত্মসমর্পণ করব না। বরং যুদ্ধক্ষেত্রই নিজের কথা বলবে।’প্রেক্ষাপটযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হিজবুল্লাহ ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন, রাজধানী বৈরুত এবং বেকা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ লেবাননে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযানও শুরু হয়।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা একটি অন্যতম শর্ত ছিল। তবে, ইসরায়েল প্রথম থেকেই এটি অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধবিরতির পরদিন লেবাননে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলাও চালায় দেশটি। ওয়াশিংটনের আজকের আলোচনা সেই উত্তেজনা কতটা কমাতে পারে, তা দেখার বিষয়।

ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা শুরু