ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) ভোররাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ।আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে এবং এসটিএফ-এর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ।এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ ও পরিকল্পনা করেছিলেন মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। তার নির্দেশেই ফয়সাল করিম ও আলমগীর এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার পরপরই তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল বলে নিশ্চিত হয় ডিবি ।উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পুরান পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় যাত্রী অবস্থায় ওসমান হাদিকে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন । গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ফয়সাল করিম ও আলমগীরসহ ছয়জন পলাতক ছিল। তাদের গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ ।পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত দুজন বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় আটক ছিল এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল । তাদের ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।