ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যেই নিজেদের বাহিনী ‘ভেঙে পড়া’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। ইরানের পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করছে দখলদার দেশটির বাহিনী। আর তাতেই দেখা দিয়েছে সেনাসংকট।
ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার (২৫ মার্চ) ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইয়াল জামির। সেখানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সামনে ১০টি বিপদের কথা তুলে ধরছি। তার মধ্যে একটি হলো—সেনা সংকটের কারণে খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী সাধারণ অভিযান চালাতেও অক্ষম হয়ে পড়বে।”
এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সেনা নিয়োগ আইন, সাবেক সেনাদের দায়িত্বে ফেরানো-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্বের সময়সীমা বাড়ানো-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ণ করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে ইরানের পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলি বাহিনীতে সেনাসংকট দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের এই সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে হলে ইসরায়েলকে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ ও সম্পদ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, যা দেশটির সামরিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সেনা সংকট কাটাতে ইসরায়েলি সরকার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে কি না, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন