ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি অনুমোদন করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আলোর মুখ দেখেছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়।
মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পরিষদ এই চুক্তিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
স্থায়ী চুক্তির জন্য আলোচনা হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর ইরান ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার (১১ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদে দুই সপ্তাহের আলোচনা শুরু হবে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই আলোচনার মানে যুদ্ধ শেষ হওয়া নয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরান তখনই যুদ্ধ বন্ধ মানবে, যখন ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়গুলো আলোচনায় চূড়ান্ত হবে।’
ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একটুও আস্থা রাখে না। তবে দুই পক্ষ রাজি হলে আলোচনার সময় বাড়ানো যাবে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। দফাগুলো হলো—
১. যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন চালাবে না—এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে
২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে
৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নিতে হবে
৪ ও ৫. ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে
৬. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে
৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নর বোর্ডের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে
৮. যুদ্ধে ইরানের ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
৯. এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধ বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে
১০. লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে
কাউন্সিলের বিবৃতিতে দেশের মানুষ, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এই আলোচনা জাতীয় পর্যায়ের। বিপ্লবী নেতাদের তত্ত্বাবধানে এটি চলছে। সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যদি আলোচনায় শত্রুর পরাজয় একটি বড় রাজনৈতিক অর্জনে পরিণত হয়, তাহলে আমরা একসঙ্গে এই মহান ঐতিহাসিক বিজয় উদযাপন করব। নইলে আমরা মাঠে পাশাপাশি লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না ইরানি জাতির সব দাবি পূরণ হয়।’
ইরান কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে, ‘আমাদের হাত ট্রিগারে আছে। শত্রু সামান্যতম ভুল করলেও পূর্ণ শক্তিতে জবাব দেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে। ইরানের প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য ‘কাজ চলার মতো ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি।
এখন সবার নজর আগামী শুক্রবারের দিকে। ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন