ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
গণবার্তা

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রবল বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘তিনদিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন বলে জানান সংসদ নেতা।

মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিন নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোয় হঠাৎ বর্ষণে বোরো মৌসুমের ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে চাল, ডাল, লবণ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিন মাসের এ সহায়তার আওতায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে জানানো হবে।

বিরোধী দলীয় সাংসদরা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এখনও চাষাবাদে ফিরতে পারেননি। তাদের কথা কি সরকার বিবেচনা করছে? এক চৌম্বক জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টিও নজরে রয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি আগের ক্ষতিগ্রস্তদেরও তালিকা হালনাগাদ করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও নদ-নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ কমে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
প্রবল বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ ঘোষণা দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখছে সরকার।তিনি বলেন, ‘তিনদিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’বুধবার সকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন বলে জানান সংসদ নেতা।মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিন নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোয় হঠাৎ বর্ষণে বোরো মৌসুমের ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জরিপ শুরু হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে চাল, ডাল, লবণ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিন মাসের এ সহায়তার আওতায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে জানানো হবে।বিরোধী দলীয় সাংসদরা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এখনও চাষাবাদে ফিরতে পারেননি। তাদের কথা কি সরকার বিবেচনা করছে? এক চৌম্বক জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টিও নজরে রয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি আগের ক্ষতিগ্রস্তদেরও তালিকা হালনাগাদ করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এদিকে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও নদ-নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ কমে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা