ময়মনসিংহে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় কবির হোসেন রুবেল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান শিশু ধর্ষণের ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এটি প্রথম যাবজ্জীবন সাজা।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কবির হোসেন রুবেল মিয়া মহানগরীর আকুয়া চৌরঙ্গী মোড় এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
মামলার নথির বরাত দিয়ে আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যার পর ওই শিশু নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রুবেল মিয়া পিছন থেকে তার মুখ চেপে ধরে এবং চাকু দেখিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। পরে তাকে নগরীর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর আসামি ওই শিশুকে কাউকে কিছু বললে হত্যার হুমকি দেয়। পরে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে।
পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর ভিকটিম শিশুর বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার ১০ বছর পর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ এই বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদীপক্ষের সাক্ষী ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।
মামলায় বিশেষ সরকারি কৌঁশলী ছিলেন মজিবুর রহমান। তিনিই মামলাটি পরিচালনা করেন।
আইনজীবীরা জানান, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এটাই ট্রাইব্যুনালের প্রথম যাবজ্জীবন সাজার রায়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর ভিকটিমের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন।
২০১৬ সালের ঘটনার ১০ বছর পর এ রায় এলেও ভিকটিম ও তার পরিবারের জন্য এটি ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে থাকল। তবে আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভিকটিম এখন কৈশোর পেরিয়ে তরুণী হয়েছেন। আইনজীবীরা মনে করছেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল থাকলেও এখনও সাক্ষী উপস্থিত ও অন্যান্য জটিলতায় সময় লাগছে। এই রায় অন্য ধর্ষণ মামলায় উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন আইনজীবীরা।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন