ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

ঘরের ছোট কাজ শিশুকে বড় সাফল্যের পথে নিয়ে যায়: হার্ভার্ডের গবেষণা

ঘরের ছোট কাজ শিশুকে বড় সাফল্যের পথে নিয়ে যায়: হার্ভার্ডের গবেষণা

শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই ভবিষ্যতে সফল হওয়া যায় না—শিশুর সাফল্য এবং সুখের পেছনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দায়িত্ববোধ ও দৈনন্দিন অভ্যাস। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৮৫ বছরের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ছোটবেলা থেকেই যারা ঘরের ছোটখাটো কাজে অংশ নেয় এবং পরিবারকে সহযোগিতা করতে শেখে, ভবিষ্যতে তারাই বেশি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।

সন্তান জীবনে সফল হোক সব মা-বাবাই তা চান। আর সফল হতে গেলে মন দিয়ে পড়াশোনা করা জরুরি। তাতে কোনো সন্দেহ নেই ঠিকই, তবে পড়াশোনা ও খেলাধুলার বাইরেও আরও একটি অভ্যাস আছে যা ছোট থেকে আয়ত্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে সবচেয়ে বেশি সফল ও দায়িত্বশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

ঘরের ছোট কাজ থেকে বাড়বে আত্মবিশ্বাস

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দৈনিক কাজের মাধ্যমে দেওয়া যায়। অনেক শিশুই ছোটবেলায় পড়াশোনায় তেমন মনোযোগী হয় না। কেউ হয়তো পড়াশোনায় ভালো, কেউ খেলাধুলায়। তাই শুধু বইয়ের পাঠ বা খেলাধুলাকেই সাফল্য অর্জনের মাপকাঠি ভেবে ফেললে ভুল হবে। অমনোযোগী শিশুকেও দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায়, যদি তাকে ঘরের ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব দেওয়া যায়। ছোট থেকেই সেই অভ্যাস করালে পেশাদারিত্বের মনোভাব ও দায়িত্বজ্ঞান তৈরি হবে শিশুর মধ্যে। তখন সে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজেও মন দেবে।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে

১. ছোট থেকে কাজ করলে শিশুরা বুঝতে পারে, ফল পেতে হলে পরিশ্রম করা প্রয়োজন। যা তাদের ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী হতে সাহায্য করে।

২. ছোট ছোট কাজ, যেমন নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, বিছানা পরিষ্কার করা বা জামাকাপড় গুছিয়ে রাখার মতো কাজ ঠিকমতো করতে পারলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ভবিষ্যতে তা স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।

৩. ঘরের যে কোনো কাজে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করলে তারা বুঝতে পারে প্রত্যেকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্যের শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। ভবিষ্যতে যা তাদের টিম ওয়ার্কে সাহায্য করবে।

কীভাবে ঘরের কাজের অভ্যাস করাবেন

  • প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বালিশ ও চাদর গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করানো

  • খেলার পর খেলনাগুলো ছোট্ট ঝুড়ি বা বাক্সে গুছিয়ে রাখা

  • খাওয়ার আগে প্লেট সাজানো বা খাওয়ার পর নিজের থালাবাটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া

  • শিশুর জন্য আলাদা ওয়ারড্রব রেখে নিজের জামাকাপড় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখার অভ্যাস করানো

  • নিজের পড়ার ঘর বা জায়গা পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া

  • বাড়ির গাছপালায় পানি দেওয়া ও পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া, যা মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কমাতেও সাহায্য করে

অভিভাবকদের নিজেদের দায়িত্বও শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ঘুম থেকে ওঠার পরে মা-বাবা যদি নিজেদের বিছানা-বালিশ গোছান, তাদের দেখে শিশুও নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখতে শিখবে। তাই বাবা-মাকেই বেশি যত্নশীল হতে হবে।

সূত্র: আনন্দবাজার

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


ঘরের ছোট কাজ শিশুকে বড় সাফল্যের পথে নিয়ে যায়: হার্ভার্ডের গবেষণা

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image
শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই ভবিষ্যতে সফল হওয়া যায় না—শিশুর সাফল্য এবং সুখের পেছনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দায়িত্ববোধ ও দৈনন্দিন অভ্যাস। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৮৫ বছরের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ছোটবেলা থেকেই যারা ঘরের ছোটখাটো কাজে অংশ নেয় এবং পরিবারকে সহযোগিতা করতে শেখে, ভবিষ্যতে তারাই বেশি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।সন্তান জীবনে সফল হোক সব মা-বাবাই তা চান। আর সফল হতে গেলে মন দিয়ে পড়াশোনা করা জরুরি। তাতে কোনো সন্দেহ নেই ঠিকই, তবে পড়াশোনা ও খেলাধুলার বাইরেও আরও একটি অভ্যাস আছে যা ছোট থেকে আয়ত্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে সবচেয়ে বেশি সফল ও দায়িত্বশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।ঘরের ছোট কাজ থেকে বাড়বে আত্মবিশ্বাসগবেষকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দৈনিক কাজের মাধ্যমে দেওয়া যায়। অনেক শিশুই ছোটবেলায় পড়াশোনায় তেমন মনোযোগী হয় না। কেউ হয়তো পড়াশোনায় ভালো, কেউ খেলাধুলায়। তাই শুধু বইয়ের পাঠ বা খেলাধুলাকেই সাফল্য অর্জনের মাপকাঠি ভেবে ফেললে ভুল হবে। অমনোযোগী শিশুকেও দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায়, যদি তাকে ঘরের ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব দেওয়া যায়। ছোট থেকেই সেই অভ্যাস করালে পেশাদারিত্বের মনোভাব ও দায়িত্বজ্ঞান তৈরি হবে শিশুর মধ্যে। তখন সে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজেও মন দেবে।গবেষণায় যা উঠে এসেছে১. ছোট থেকে কাজ করলে শিশুরা বুঝতে পারে, ফল পেতে হলে পরিশ্রম করা প্রয়োজন। যা তাদের ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী হতে সাহায্য করে।২. ছোট ছোট কাজ, যেমন নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, বিছানা পরিষ্কার করা বা জামাকাপড় গুছিয়ে রাখার মতো কাজ ঠিকমতো করতে পারলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ভবিষ্যতে তা স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।৩. ঘরের যে কোনো কাজে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করলে তারা বুঝতে পারে প্রত্যেকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্যের শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। ভবিষ্যতে যা তাদের টিম ওয়ার্কে সাহায্য করবে।কীভাবে ঘরের কাজের অভ্যাস করাবেনপ্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বালিশ ও চাদর গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করানোখেলার পর খেলনাগুলো ছোট্ট ঝুড়ি বা বাক্সে গুছিয়ে রাখাখাওয়ার আগে প্লেট সাজানো বা খাওয়ার পর নিজের থালাবাটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার দায়িত্ব দেওয়াশিশুর জন্য আলাদা ওয়ারড্রব রেখে নিজের জামাকাপড় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখার অভ্যাস করানোনিজের পড়ার ঘর বা জায়গা পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়াবাড়ির গাছপালায় পানি দেওয়া ও পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া, যা মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কমাতেও সাহায্য করেঅভিভাবকদের নিজেদের দায়িত্বও শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ঘুম থেকে ওঠার পরে মা-বাবা যদি নিজেদের বিছানা-বালিশ গোছান, তাদের দেখে শিশুও নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখতে শিখবে। তাই বাবা-মাকেই বেশি যত্নশীল হতে হবে।সূত্র: আনন্দবাজার

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা