ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
গণবার্তা

ইন্টারনেট চালু না করার জন্য পলককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান

ইন্টারনেট চালু না করার জন্য পলককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ধাপে ধাপে বন্ধ রাখার পেছনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইন্টারনেট চালু না করার জন্য তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এমনই একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।


ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপ উপস্থাপন
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে গত ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ডটি শোনানো হয়। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আসামি।

ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু
এক মিনিট ৯ সেকেন্ডের আলাপনে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে সালমান ও পলককে কথা বলতে শোনা যায়। সংলাপের শুরুতে সালমান স্পষ্টভাবে বলেন—

সালমান : তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর করবা না এখন।
পলক : না।
সালমান : কোনোভাবেই না।
পলক : না।
সালমান : পরে দেখা যাবে। ঠিক আছে।

‘আন্দোলনকারী’ নয়, ‘দুর্বৃত্ত’ বলার নির্দেশ
আলাপনের পরবর্তী অংশে সালমান এফ রহমান মিডিয়ার ভাষা পরিবর্তনেরও নির্দেশ দেন। তিনি বলেন—

সালমান : টিভি চ্যানেলকে বলা হয়েছে, এদেরকে আন্দোলনকারী আর বলা যাবে না। এদেরকে এখন দুর্বৃত্ত বলতে হবে। কারণ, ছাত্ররা ওদের সঙ্গে নেই। সো স্টেপ চেঞ্জ, নো মোর আন্দোলনকারী। আমি একটা বিবৃতি দিয়েছি, লাইন পড়তে পারেন। রেকর্ড করে টিভিতে পৌঁছালে করবে আরকি।

প্রসিকিউশনের দাবি ও মামলার বর্তমান অবস্থা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হওয়া এসব কথোপকথনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছে প্রসিকিউশন। তাদের দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইন্টারনেট বন্ধ ও আন্দোলনকারীদের ‘দুর্বৃত্ত’ আখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা আসছিল। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলকের ফোনালাপ উন্মোচিত হওয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধের পেছনের রাজনৈতিক নির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। প্রসিকিউশন একে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবেই উপস্থাপন করেছে। সালমান ও আনিসুল হক আসামি হওয়া এই মামলায় আরও সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি। এই রেকর্ডিং মামলার গতিপথ কীভাবে বদলায়, তা দেখার অপেক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


ইন্টারনেট চালু না করার জন্য পলককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ধাপে ধাপে বন্ধ রাখার পেছনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইন্টারনেট চালু না করার জন্য তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এমনই একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপ উপস্থাপনমানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে গত ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ডটি শোনানো হয়। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আসামি।ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তুএক মিনিট ৯ সেকেন্ডের আলাপনে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে সালমান ও পলককে কথা বলতে শোনা যায়। সংলাপের শুরুতে সালমান স্পষ্টভাবে বলেন—সালমান : তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর করবা না এখন।পলক : না।সালমান : কোনোভাবেই না।পলক : না।সালমান : পরে দেখা যাবে। ঠিক আছে।‘আন্দোলনকারী’ নয়, ‘দুর্বৃত্ত’ বলার নির্দেশআলাপনের পরবর্তী অংশে সালমান এফ রহমান মিডিয়ার ভাষা পরিবর্তনেরও নির্দেশ দেন। তিনি বলেন—সালমান : টিভি চ্যানেলকে বলা হয়েছে, এদেরকে আন্দোলনকারী আর বলা যাবে না। এদেরকে এখন দুর্বৃত্ত বলতে হবে। কারণ, ছাত্ররা ওদের সঙ্গে নেই। সো স্টেপ চেঞ্জ, নো মোর আন্দোলনকারী। আমি একটা বিবৃতি দিয়েছি, লাইন পড়তে পারেন। রেকর্ড করে টিভিতে পৌঁছালে করবে আরকি।প্রসিকিউশনের দাবি ও মামলার বর্তমান অবস্থাজুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হওয়া এসব কথোপকথনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছে প্রসিকিউশন। তাদের দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইন্টারনেট বন্ধ ও আন্দোলনকারীদের ‘দুর্বৃত্ত’ আখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা আসছিল। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলকের ফোনালাপ উন্মোচিত হওয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধের পেছনের রাজনৈতিক নির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। প্রসিকিউশন একে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবেই উপস্থাপন করেছে। সালমান ও আনিসুল হক আসামি হওয়া এই মামলায় আরও সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি। এই রেকর্ডিং মামলার গতিপথ কীভাবে বদলায়, তা দেখার অপেক্ষা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা