ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ বিইআরসির

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ বিইআরসির

খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বিইআরসির দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কমিটির মতে, প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।

কারিগরি কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

টিইসির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস বা বিতরণজনিত ক্ষতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে কমিটি জানিয়েছে, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য বিদ্যমান স্ল্যাব পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের বিল নির্ধারণ করা হয়, সেই কাঠামোই বহাল থাকবে।

এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাব বাতিল করে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটি নতুন স্ল্যাব চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে কারিগরি কমিটি মনে করছে, হঠাৎ এ ধরনের পরিবর্তন করলে নিম্ন ও প্রান্তিক আয়ের গ্রাহকরা সমস্যায় পড়তে পারেন। এ কারণে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামো বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি।

বিইআরসির কারিগরি কমিটির এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে, তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্ল্যাব পদ্ধতি অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ স্বস্তির খবর। অন্যদিকে, ভর্তুকি ১৩ হাজার কোটি টাকা কমানোর সম্ভাবনা সরকারের জন্য ইতিবাচক। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি ও সরকার। সাধারণ গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব কেমন হবে, তা পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ বিইআরসির

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image
খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বিইআরসির দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কমিটির মতে, প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।কারিগরি কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।টিইসির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস বা বিতরণজনিত ক্ষতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে কমিটি জানিয়েছে, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য বিদ্যমান স্ল্যাব পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের বিল নির্ধারণ করা হয়, সেই কাঠামোই বহাল থাকবে।এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাব বাতিল করে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটি নতুন স্ল্যাব চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে কারিগরি কমিটি মনে করছে, হঠাৎ এ ধরনের পরিবর্তন করলে নিম্ন ও প্রান্তিক আয়ের গ্রাহকরা সমস্যায় পড়তে পারেন। এ কারণে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামো বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি।বিইআরসির কারিগরি কমিটির এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে, তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্ল্যাব পদ্ধতি অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ স্বস্তির খবর। অন্যদিকে, ভর্তুকি ১৩ হাজার কোটি টাকা কমানোর সম্ভাবনা সরকারের জন্য ইতিবাচক। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি ও সরকার। সাধারণ গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব কেমন হবে, তা পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা