ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

প্রেমিকার বাসায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে ধরা পড়লেন স্বামী

প্রেমিকার বাসায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে ধরা পড়লেন স্বামী

পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগারওয়াল হত্যা মামলার রেশ না কাটতেই ভারতে ঘটেছে আরও একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড। হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের মানেসরে এক ব্যক্তি প্রেমিকার সহায়তায় বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন। পরে নেপালে পালিয়ে গেলেও ভারতে ফিরে আসার পর দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে নিহত তরুণীর মা মানেসর থানায় অভিযোগ করেন যে, তার ২২ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মানেসরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি অঙ্কিতের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২১ মে থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি। পরে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্দেহ হলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের মা। তদন্তের এক পর্যায়ে ২২ মে মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যা ধারা যুক্ত করে তদন্ত জোরদার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অভিযুক্ত স্বামী অঙ্কিত ও তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রজনীর বাড়ি হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলায় বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্কিত মানেসরে একটি তামাকের দোকানের ব্যবসা করতেন এবং রজনী একই এলাকার একটি বিউটি পার্লারে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অঙ্কিত ও রজনীর মধ্যে গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান। এরপর দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্রটি সংগ্রহ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, গত ৩০ জুন ভারতে ফেরার পর মানেসরের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর নিহত তরুণীর পরিবার শোকাহত। তারা জানিয়েছেন, মেয়ের বিয়ের পর থেকেই অঙ্কিতের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। তিনি প্রায়ই তার মেয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। তারা দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অঙ্কিত ও তার প্রেমিকা ছাড়াও অঙ্কিতের পরিবারের সদস্যরাও দায়ী। তারা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে অঙ্কিতের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা ন্যায়বিচার চান। তারা চান, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় প্রমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তরা যদি হত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে পারে, তাহলে তাদের শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ডও। তবে এখনও তদন্ত চলছে। আদালত চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে সব প্রমাণ যাচাই করবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। তারা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে। এই মামলা ভারতে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে ‘পুনের ঘটনার’ সঙ্গে তুলনা করছেন। সেখানেও অনুরূপ একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। সমাজে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের জটিলতা ও মানসিক চাপ এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী হতে পারে। তারা মনে করেন, প্রেম বা বিয়ের সম্পর্কে যদি কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তবে তা মোকাবিলায় আইনি ও মানসিক সহায়তা নেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলবে। গুরুগ্রামের এই হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল, প্রেমের সম্পর্ক কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ ঘটনার পর সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে কঠোর আইনের দাবি উঠেছে। তারা চান, অপরাধীরা যেন সহজে ছাড় না পায়। পুলিশ তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারা আশা করছে, দ্রুত এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারবে। আদালতও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এই মামলায় চূড়ান্ত রায় কী আসে। তবে আপাতত অঙ্কিত ও রজনী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য সব প্রমাণ সংগ্রহ করছে। তারা আশা করছে, খুব শিগগিরই তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে পারবে। এই ঘটনা সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আইনি ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সব মিলিয়ে, এই হত্যাকাণ্ড একটি করুণ ঘটনা। এতে একজন নিরীহ নারী প্রাণ হারিয়েছে। তার পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তারা ন্যায়বিচার পেতে চান। আদালত থেকে তারা সেই ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করা যায়। এখন সবাই এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। কি হবে অঙ্কিত ও রজনীর? তাদের কী শাস্তি হয়? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এই মুহূর্তে সবাই নিহত তরুণীর আত্মার শান্তি কামনা করছেন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই যেন সচেতন হয়, সেটাই প্রত্যাশা। অন্যথায়, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে এবং সম্পর্কের জটিলতা মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝতে হবে। তবেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা রোধ করা সম্ভব। পুলিশ ও প্রশাসনেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে আর কেউ এ রকম অপরাধের শিকার হবে না। এই প্রত্যাশা সবার। সবাই একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ কামনা করে। সেই সমাজ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের ঘটনা কমবে। আর নারীরা নিরাপদে থাকবেন। এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কাজ করতে হবে। এখন সময় এসেছে, কথা না বলে কাজ করার। আইন প্রয়োগ, সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই পরিবর্তন আসবে। আশা করা যায়, এই ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নেবে। এবং ভবিষ্যতে আর কেউ এ রকম অপরাধ করবে না। এই প্রত্যাশা সবার। এখন সময় এসেছে, সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার। সেই সমাজে থাকবে না কোনো হত্যা, কোনো অপরাধ। থাকবে শুধু শান্তি ও সম্প্রীতি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা উন্নত সমাজ গড়তে পারবো। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে। তাহলেই আমরা সফল হবো।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


প্রেমিকার বাসায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে ধরা পড়লেন স্বামী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image
পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগারওয়াল হত্যা মামলার রেশ না কাটতেই ভারতে ঘটেছে আরও একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড। হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের মানেসরে এক ব্যক্তি প্রেমিকার সহায়তায় বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন। পরে নেপালে পালিয়ে গেলেও ভারতে ফিরে আসার পর দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে নিহত তরুণীর মা মানেসর থানায় অভিযোগ করেন যে, তার ২২ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মানেসরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি অঙ্কিতের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২১ মে থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি। পরে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্দেহ হলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের মা। তদন্তের এক পর্যায়ে ২২ মে মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যা ধারা যুক্ত করে তদন্ত জোরদার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অভিযুক্ত স্বামী অঙ্কিত ও তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রজনীর বাড়ি হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলায় বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্কিত মানেসরে একটি তামাকের দোকানের ব্যবসা করতেন এবং রজনী একই এলাকার একটি বিউটি পার্লারে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অঙ্কিত ও রজনীর মধ্যে গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান। এরপর দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্রটি সংগ্রহ করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, গত ৩০ জুন ভারতে ফেরার পর মানেসরের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।ঘটনার পর নিহত তরুণীর পরিবার শোকাহত। তারা জানিয়েছেন, মেয়ের বিয়ের পর থেকেই অঙ্কিতের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। তিনি প্রায়ই তার মেয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। তারা দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অঙ্কিত ও তার প্রেমিকা ছাড়াও অঙ্কিতের পরিবারের সদস্যরাও দায়ী। তারা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে অঙ্কিতের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা ন্যায়বিচার চান। তারা চান, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় প্রমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তরা যদি হত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে পারে, তাহলে তাদের শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ডও। তবে এখনও তদন্ত চলছে। আদালত চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে সব প্রমাণ যাচাই করবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। তারা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে। এই মামলা ভারতে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে ‘পুনের ঘটনার’ সঙ্গে তুলনা করছেন। সেখানেও অনুরূপ একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। সমাজে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের জটিলতা ও মানসিক চাপ এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী হতে পারে। তারা মনে করেন, প্রেম বা বিয়ের সম্পর্কে যদি কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তবে তা মোকাবিলায় আইনি ও মানসিক সহায়তা নেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলবে। গুরুগ্রামের এই হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল, প্রেমের সম্পর্ক কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ ঘটনার পর সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে কঠোর আইনের দাবি উঠেছে। তারা চান, অপরাধীরা যেন সহজে ছাড় না পায়। পুলিশ তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারা আশা করছে, দ্রুত এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারবে। আদালতও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এই মামলায় চূড়ান্ত রায় কী আসে। তবে আপাতত অঙ্কিত ও রজনী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য সব প্রমাণ সংগ্রহ করছে। তারা আশা করছে, খুব শিগগিরই তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে পারবে। এই ঘটনা সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আইনি ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সব মিলিয়ে, এই হত্যাকাণ্ড একটি করুণ ঘটনা। এতে একজন নিরীহ নারী প্রাণ হারিয়েছে। তার পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তারা ন্যায়বিচার পেতে চান। আদালত থেকে তারা সেই ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করা যায়। এখন সবাই এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। কি হবে অঙ্কিত ও রজনীর? তাদের কী শাস্তি হয়? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এই মুহূর্তে সবাই নিহত তরুণীর আত্মার শান্তি কামনা করছেন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই যেন সচেতন হয়, সেটাই প্রত্যাশা। অন্যথায়, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে এবং সম্পর্কের জটিলতা মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝতে হবে। তবেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা রোধ করা সম্ভব। পুলিশ ও প্রশাসনেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে আর কেউ এ রকম অপরাধের শিকার হবে না। এই প্রত্যাশা সবার। সবাই একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ কামনা করে। সেই সমাজ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের ঘটনা কমবে। আর নারীরা নিরাপদে থাকবেন। এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কাজ করতে হবে। এখন সময় এসেছে, কথা না বলে কাজ করার। আইন প্রয়োগ, সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই পরিবর্তন আসবে। আশা করা যায়, এই ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নেবে। এবং ভবিষ্যতে আর কেউ এ রকম অপরাধ করবে না। এই প্রত্যাশা সবার। এখন সময় এসেছে, সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার। সেই সমাজে থাকবে না কোনো হত্যা, কোনো অপরাধ। থাকবে শুধু শান্তি ও সম্প্রীতি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা উন্নত সমাজ গড়তে পারবো। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে। তাহলেই আমরা সফল হবো।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা