ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ে। গভীর রাতে আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে একাধিক বসতঘরের ওপর। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় কয়েকজন মাটিচাপা পড়েন। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পরে ক্যাম্প প্রশাসন ও উখিয়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে হুমায়ারা বেগম ও আনাসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুই নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া একই পরিবারের আরও একজন সদস্য নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।’ ক্যাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পবাসীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর উখিয়ার তিনটি ক্যাম্পেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পালংখালী ইউনিয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী দুটি ক্যাম্পেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বেশ কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় এখনও অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসন উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছু আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো দুর্গতদের সহায়তার জন্য কাজ করছে। তারা ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করছে। পাহাড় ধসের কারণে ক্যাম্পগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড় ধসে অনেক প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আবাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সেই দাবি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার জন্য। এদিকে, নিহতদের পরিবারগুলো এখন শোকে মুহ্যমান। তারা হারানো স্বজনদের জন্য কাঁদছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু এই বিপর্যয় মোকাবিলায় তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রশাসন ও মানবিক সংস্থাগুলোর আরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। উদ্ধারকাজ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় তারা আরও দুর্ভোগের শিকার হবেন। ভূমিধসের ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। পাহাড়ি এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও ঢাল মজবুত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। জলনিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাও এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে হবে। সব মিলিয়ে, কক্সবাজারের এই ঘটনা একটি করুণ ট্র্যাজেডি। প্রাণহানি রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আগামী বছরগুলোর বর্ষায় আরও অনেক প্রাণ ঝরবে। সরকার, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই বিপর্যয় রোধ করতে। এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার। অন্যথায় এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে নিরাপদ করা সম্ভব। সেই প্রচেষ্টায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। রোহিঙ্গাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এই দাবি পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় আরও অনেক পরিবার এই রকম শোকের সাগরে ভাসবে। তাই এখনই সময় কাজ করার। শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার। তবেই এই ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব। সবাই মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলে অবশ্যই সফলতা আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image
কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ে। গভীর রাতে আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে একাধিক বসতঘরের ওপর। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় কয়েকজন মাটিচাপা পড়েন। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পরে ক্যাম্প প্রশাসন ও উখিয়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে হুমায়ারা বেগম ও আনাসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুই নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া একই পরিবারের আরও একজন সদস্য নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।’ ক্যাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পবাসীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ঘটনার পর উখিয়ার তিনটি ক্যাম্পেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পালংখালী ইউনিয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী দুটি ক্যাম্পেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বেশ কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় এখনও অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসন উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছু আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো দুর্গতদের সহায়তার জন্য কাজ করছে। তারা ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করছে। পাহাড় ধসের কারণে ক্যাম্পগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড় ধসে অনেক প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আবাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সেই দাবি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার জন্য। এদিকে, নিহতদের পরিবারগুলো এখন শোকে মুহ্যমান। তারা হারানো স্বজনদের জন্য কাঁদছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু এই বিপর্যয় মোকাবিলায় তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রশাসন ও মানবিক সংস্থাগুলোর আরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। উদ্ধারকাজ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় তারা আরও দুর্ভোগের শিকার হবেন। ভূমিধসের ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। পাহাড়ি এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও ঢাল মজবুত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। জলনিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাও এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে হবে। সব মিলিয়ে, কক্সবাজারের এই ঘটনা একটি করুণ ট্র্যাজেডি। প্রাণহানি রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আগামী বছরগুলোর বর্ষায় আরও অনেক প্রাণ ঝরবে। সরকার, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই বিপর্যয় রোধ করতে। এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার। অন্যথায় এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে নিরাপদ করা সম্ভব। সেই প্রচেষ্টায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। রোহিঙ্গাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এই দাবি পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় আরও অনেক পরিবার এই রকম শোকের সাগরে ভাসবে। তাই এখনই সময় কাজ করার। শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার। তবেই এই ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব। সবাই মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলে অবশ্যই সফলতা আসবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা