ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

কুড়িগ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মন্দির কমিটির সভাপতি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মন্দির কমিটির সভাপতি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণ চন্দ্র (৭০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারায়ণ চন্দ্র রাজারহাট উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রামের মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল শিশুটি। একপর্যায়ে নারায়ণ চন্দ্র মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে নারায়ণ চন্দ্র দ্রুত পালিয়ে যান। পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। পরে রাতে রাজারহাট থানায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে নারায়ণ চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটিকে মিষ্টি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ব্যক্তি তাঁর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মন্দির কমিটির সভাপতি। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, মামলার পর শনিবার রাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। শিশুটির বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। শিশুটির পরিবার বলেছে, তারা ন্যায়বিচার চায় এবং অপরাধীর যেন দ্রুত শাস্তি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার কঠোর শাস্তি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন। সমাজের সবার উচিত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়া। অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যেতে না বলা, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলবে। পুলিশ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত পুলিশে জানাতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থার পরিচায়ক। তবে এ ধরনের অপরাধ যাতে না ঘটে, সেজন্য সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় আরও বেশি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হবে। কুড়িগ্রামের এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। এখন সময় এসেছে শিশু নিরাপত্তায় আরও কঠোর আইন ও সচেতনতা তৈরি করার। সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে মিলে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাহলেই শিশুরা নিরাপদ থাকবে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। এই ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তারা কাজ করবে। অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের কাছাকাছি থাকা উচিত এবং তাদের কার্যকলাপের প্রতি নজর রাখা উচিত। অপরিচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে সন্তানদের সচেতন করা জরুরি। এ ছাড়া স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়েও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সব মিলিয়ে, শিশু নিরাপত্তা একটি সামাজিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কাউকে পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারি। নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত দ্রুত বিচার করে অপরাধীকে শাস্তি দেবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। তারা চান, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সেজন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষা। শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার কর্তব্য। এই কর্তব্য পালনে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তবেই একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


কুড়িগ্রামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মন্দির কমিটির সভাপতি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণ চন্দ্র (৭০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারায়ণ চন্দ্র রাজারহাট উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রামের মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল শিশুটি। একপর্যায়ে নারায়ণ চন্দ্র মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে নারায়ণ চন্দ্র দ্রুত পালিয়ে যান। পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। পরে রাতে রাজারহাট থানায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে নারায়ণ চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটিকে মিষ্টি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ব্যক্তি তাঁর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মন্দির কমিটির সভাপতি। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, মামলার পর শনিবার রাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। শিশুটির বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। শিশুটির পরিবার বলেছে, তারা ন্যায়বিচার চায় এবং অপরাধীর যেন দ্রুত শাস্তি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার কঠোর শাস্তি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন। সমাজের সবার উচিত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়া। অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যেতে না বলা, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলবে। পুলিশ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত পুলিশে জানাতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থার পরিচায়ক। তবে এ ধরনের অপরাধ যাতে না ঘটে, সেজন্য সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় আরও বেশি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হবে। কুড়িগ্রামের এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। এখন সময় এসেছে শিশু নিরাপত্তায় আরও কঠোর আইন ও সচেতনতা তৈরি করার। সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে মিলে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাহলেই শিশুরা নিরাপদ থাকবে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। এই ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তারা কাজ করবে। অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের কাছাকাছি থাকা উচিত এবং তাদের কার্যকলাপের প্রতি নজর রাখা উচিত। অপরিচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে সন্তানদের সচেতন করা জরুরি। এ ছাড়া স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়েও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সব মিলিয়ে, শিশু নিরাপত্তা একটি সামাজিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কাউকে পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারি। নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত দ্রুত বিচার করে অপরাধীকে শাস্তি দেবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। তারা চান, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সেজন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষা। শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার কর্তব্য। এই কর্তব্য পালনে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তবেই একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা