ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।

১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।

তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।

ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।

ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।

শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।

বিষয় : মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ক্ষুদিরাম বসু

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


ইতিহাসের অবহেলিত বীর: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গল্প

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ, ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর বীরত্বগাথা পড়ে বড় হয়েছি। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে তাঁর সেই বিখ্যাত গান—"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"—শোনেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। ক্ষুদিরাম আমাদের আবেগ, আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, "মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ" নামটা আমাদের কয়জন জানি? অথচ এই আব্দুল্লাহও ছিলেন একজন বাঙালি উপমহাদেশীয় বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামের আন্দোলনের মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৮৭১ সালে কলকাতার টাউন হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই আব্দুল্লাহ একাই বুক চিতিয়ে হত্যা করেছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যানকে—যে বিচারক বিপ্লবীদের কঠোর সাজা ও ফাঁসি দেওয়ার জন্য কুখ্যাত ছিলেন।১৮৭১ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার টাউন হলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ তাঁর পথ রোধ করেন। তিনি নরম্যানের বুকে একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, যা ছিল এতটাই নিখুঁত ও মারাত্মক যে নরম্যান ঘটনাস্থলেই মারা যান। আব্দুল্লাহকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। অথচ ক্ষুদিরাম বসু ১৯০৮ সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে বোমা ছুড়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত দুজন নিরীহ ইউরোপীয় নারী মারা যান, কিংসফোর্ড বেঁচে যান। আর আব্দুল্লাহ একাই একটি ছুরি হাতে সরাসরি তাঁর মূল টার্গেট, ব্রিটিশদের প্রধান বিচারপতিকে খতম করেছিলেন। ফলাফল দুজনেরই ব্রিটিশদের ফাঁসির দড়ি।তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় কেন এই আকাশ-পাতাল বৈষম্য? কেন ক্ষুদিরামের নাম আমাদের মুখে মুখে, আর আব্দুল্লাহর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে একপ্রকার মুছে দেওয়া হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা। আব্দুল্লাহ যুক্ত ছিলেন ওহাবি আন্দোলনের সাথে। আমাদের আধুনিক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকরা ওহাবি আন্দোলনকে কেবল "ধর্মীয় আন্দোলন" তকমা দিয়ে আব্দুল্লাহর মতো খাঁটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। অথচ ওহাবি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ধারা, যার মাধ্যমে উপমহাদেশের মানুষ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই আন্দোলনেরই একজন উজ্জ্বল সেনানী।ব্রিটিশরা সুকৌশলে আব্দুল্লাহর সমস্ত তথ্য, ছবি এবং স্মৃতি সেন্সর করেছিল যাতে তিনি মুসলিম তরুণদের আইকন বা শহীদ হতে না পারেন। ব্রিটিশরা জানত, একজন মুসলিম বিপ্লবী যদি আদর্শে পরিণত হয়, তাহলে তা উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা আব্দুল্লাহর নাম ও পরিচয় গুম করে দেয়। আর স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাবোর্ডগুলোও সেই ব্রিটিশদের তৈরি করা সিলেবাসের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আব্দুল্লাহর মতো অনেক বীরই রয়ে গেছেন ইতিহাসের আড়ালে।ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের জাতীয় বীর, আব্দুল্লাহও তেমনই বীর। ক্ষুদিরাম ফাঁসির আগে গান গেয়েছেন, আব্দুল্লাহও ফাঁসির আগে নির্ভীক ছিলেন। একজন ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ভারতবাসী আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করবে না। তাঁর এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের জানা উচিত। আজ সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর। ইতিহাস কারও একার সম্পত্তি নয়। রক্ত ক্ষুদিরামও দিয়েছেন, রক্ত আব্দুল্লাহও দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া প্রতিটা মানুষই সমান শ্রদ্ধার পাত্র। আসুন, নিজেদের ইতিহাসকে নতুন করে জানি। আব্দুল্লাহদের মতো হারিয়ে যাওয়া বীরদের অবদানের কথা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাই।শিক্ষাবোর্ডগুলোর উচিত আব্দুল্লাহসহ সকল উপেক্ষিত বিপ্লবীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। আব্দুল্লাহর নামে স্মৃতিসৌধ, রাস্তা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাঁকে চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আব্দুল্লাহর জীবন ও আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। গণমাধ্যমে আব্দুল্লাহর কাহিনি প্রচার করতে হবে, যাতে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হন। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সমান সম্মানের অধিকারী। ক্ষুদিরাম যেমন আমাদের গর্ব, আব্দুল্লাহও তেমনই আমাদের গর্ব। ইতিহাসের এই একপেশে বয়ান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত প্রতিটি বীরের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণ ইতিহাসকে আত্মস্থ করতে পারব। ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়কে সামনে এনে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সম্পূর্ণ ও সঠিক ইতিহাস উপহার দিতে পারি। আব্দুল্লাহর মতো বীরদের প্রতি আমাদের এই দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ফোঁটা রক্তই সমান মূল্যবান। এখন সময় এসেছে আব্দুল্লাহদের পুনর্বাসনের, যাতে নতুন প্রজন্ম জানে—স্বাধীনতার এই পথ কতটা রক্তক্ষয়ী ছিল এবং কতজন অজানা বীর এই পথ প্রশস্ত করেছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা