ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

‘সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে’— নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির কঠোর নির্দেশ

‘সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে’— নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির কঠোর নির্দেশ

সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ইরানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সুপ্রিম লিডার একটি নির্দেশ জারি করেছেন যে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না। এই নির্দেশনার মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান কঠোর করেছে তেহরান।

মোজতবা খামেনির এই নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। ইরানের যত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় আছে, তার শেষ সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রিম লিডার।

ধারণা করা হয় ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম আছে। যা দিয়ে অন্তত এক ডজন পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইরানের নেতৃবৃন্দের মত হলো— সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরান থেকে বের করা যাবে না। কারণ এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে তাদের দেশ।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে, হিজবুল্লাহ-হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ না করা হবে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা শেষ না করা হবে, ততক্ষণ তিনি যুদ্ধ বন্ধ করবেন না। দখলদার ইসরায়েলের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন, ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তি হয় তাহলে সেখানে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অবশ্যই থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। ইরান এখন অবস্থান কঠিন করায় এ নিয়ে আরও ক্ষুব্ধ হতে পারেন ট্রাম্প।

মোজতবা খামেনির এই নির্দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নেতানিয়াহুর শর্তের বিপরীতে তেহরান তাদের অবস্থান আগের চেয়ে কঠোর করল। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ৪০০ কেজি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানের হাতে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। আগামী দিনে শান্তি আলোচনা কতটা জটিল হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, তা দেখার অপেক্ষা।

বিষয় : ইরান ইউরেনিয়াম সৈয়দ আয়াতুল্লাহ মুজতবা আলী খামেনি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


‘সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে’— নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির কঠোর নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ইরানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সুপ্রিম লিডার একটি নির্দেশ জারি করেছেন যে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না। এই নির্দেশনার মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান কঠোর করেছে তেহরান।মোজতবা খামেনির এই নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। ইরানের যত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় আছে, তার শেষ সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রিম লিডার।ধারণা করা হয় ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম আছে। যা দিয়ে অন্তত এক ডজন পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইরানের নেতৃবৃন্দের মত হলো— সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরান থেকে বের করা যাবে না। কারণ এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে তাদের দেশ।’ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে, হিজবুল্লাহ-হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ না করা হবে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা শেষ না করা হবে, ততক্ষণ তিনি যুদ্ধ বন্ধ করবেন না। দখলদার ইসরায়েলের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন, ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তি হয় তাহলে সেখানে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অবশ্যই থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। ইরান এখন অবস্থান কঠিন করায় এ নিয়ে আরও ক্ষুব্ধ হতে পারেন ট্রাম্প।মোজতবা খামেনির এই নির্দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নেতানিয়াহুর শর্তের বিপরীতে তেহরান তাদের অবস্থান আগের চেয়ে কঠোর করল। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ৪০০ কেজি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানের হাতে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। আগামী দিনে শান্তি আলোচনা কতটা জটিল হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, তা দেখার অপেক্ষা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা