ঢাকা    শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
গণবার্তা

টিফিনের সময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, দোকানি আটক

টিফিনের সময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, দোকানি আটক

সাভারে স্কুলের টিফিনের সময় বিস্কুট কিনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনার অভিযোগে শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে বনগ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকার একটি মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানি শাহজাহান তাকে বিস্কুট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরে। ধর্ষণ শেষে এই ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। বিদ্যালয় ছুটির পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার চাচাকে বিস্তারিত জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

আটক ও মামলা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাহজাহানকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখায়। গ্রেপ্তারকৃত শাহজাহান ঢাকা জেলার দোহার থানার সুতারপাড়া গ্রামের মৃত ইরফান আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বনগ্রামের মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিল।

শিশুর চিকিৎসা
নির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে হেফাজতে নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।’

স্কুলের টিফিনের সময়টুকুতে এক শিশু বিস্কুট কিনতে গিয়েছিল, আর ফিরেছে চিরতরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের এমন নৃশংসতা মানবতাকে লজ্জায় নত করেছে। এলাকাবাসীর গণধোলাই ও পুলিশের দ্রুত গ্রেপ্তার স্বস্তি দিলেও, শিশুটির মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শিশু নিরাপত্তায় আরও কঠোর পদক্ষেপ।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬


টিফিনের সময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, দোকানি আটক

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
সাভারে স্কুলের টিফিনের সময় বিস্কুট কিনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনার অভিযোগে শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।ঘটনার বিবরণমামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে বনগ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকার একটি মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানি শাহজাহান তাকে বিস্কুট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরে। ধর্ষণ শেষে এই ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। বিদ্যালয় ছুটির পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার চাচাকে বিস্তারিত জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়।আটক ও মামলাঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাহজাহানকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখায়। গ্রেপ্তারকৃত শাহজাহান ঢাকা জেলার দোহার থানার সুতারপাড়া গ্রামের মৃত ইরফান আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বনগ্রামের মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিল।শিশুর চিকিৎসানির্যাতিত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশের বক্তব্যসাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে হেফাজতে নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।’স্কুলের টিফিনের সময়টুকুতে এক শিশু বিস্কুট কিনতে গিয়েছিল, আর ফিরেছে চিরতরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের এমন নৃশংসতা মানবতাকে লজ্জায় নত করেছে। এলাকাবাসীর গণধোলাই ও পুলিশের দ্রুত গ্রেপ্তার স্বস্তি দিলেও, শিশুটির মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শিশু নিরাপত্তায় আরও কঠোর পদক্ষেপ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা