যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলেও ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ কখনোই কোনো দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। তবে যদি কেউ মনে করে ইরানের মর্যাদা, ভূখণ্ড ও মাতৃভূমিতে আঘাত করে আমাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে বা পিছু হটানো যাবে, তাহলে সেটা তাদের বড় ভুল।
গাজার উদাহরণ টেনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, তিন বছর ধরে একটি ছোট উপত্যকাকে তারা আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। তাহলে তেহরানকে পরাজিত করা তো আরও অসম্ভব।
আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা বলেন, এটি ছিল ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানেই সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা কোনো ধরনের অস্পষ্টতা ছাড়াই সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতিকে কার্যকরভাবে অর্থহীন করে দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে এই উত্তেজনার "অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতির" দায় বহন করতে হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতির যেকোনো লঙ্ঘনের পরিণতির দায়ভার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে। বিশেষ করে লেবাননের যেকোনো ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনও সামগ্রিক চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে তেহরান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পারস্পরিক হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালীতে হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চায় না, তবে প্রয়োজনে নিজেদের রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন