ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস আন্দোলন:

‘এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে’, বললেন রাহুল গান্ধী

‘এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে’, বললেন রাহুল গান্ধী

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, এটি শুধু একটি শিক্ষার্থী আন্দোলন নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

রাহুল বলেন, 'আমরা একটি গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। সরকারকে বুঝতে হবে, যা ঘটেছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি গভীর সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।' তিনি আরও বলেন, 'আপনারা যেভাবে ভারত পরিচালনা করছেন, সেভাবে আর দেশ চালানো যাবে না। শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এটি সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।'

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, 'এখনও দুটি দাবি পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থী ও দেশের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সমাজের অন্যান্য অংশ—কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষ, যাদের এই সরকার দমন করেছে—তাদের এখন সংবিধানসম্মতভাবে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না।'

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে তার পদত্যাগ অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। পদত্যাগপত্রে প্রধান জানান, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার একদিন সময় চেয়েছে। পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'তিনি আমাদের "তেলাপোকা" না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।'

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই 'ককরোচ জনতা পার্টি' নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। কিন্তু ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


‘এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে’, বললেন রাহুল গান্ধী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, এটি শুধু একটি শিক্ষার্থী আন্দোলন নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।রাহুল বলেন, 'আমরা একটি গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। সরকারকে বুঝতে হবে, যা ঘটেছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি গভীর সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।' তিনি আরও বলেন, 'আপনারা যেভাবে ভারত পরিচালনা করছেন, সেভাবে আর দেশ চালানো যাবে না। শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এটি সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।'কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, 'এখনও দুটি দাবি পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থী ও দেশের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সমাজের অন্যান্য অংশ—কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষ, যাদের এই সরকার দমন করেছে—তাদের এখন সংবিধানসম্মতভাবে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না।'কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে তার পদত্যাগ অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। পদত্যাগপত্রে প্রধান জানান, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার একদিন সময় চেয়েছে। পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'তিনি আমাদের "তেলাপোকা" না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।'প্রসঙ্গত, গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই 'ককরোচ জনতা পার্টি' নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। কিন্তু ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা