ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জয়

ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জয়

শেরে বাংলার গ্যালারিতে তখনও দর্শকরা হয়তো ঠিকঠাক নিজের চেয়ারেও বসতে পারেননি। এর মধ্যে তাসকিন উপড়ে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু শর্টের উইকেট। পরের ওভারে মোস্তাফিজ নিলেন আরও দুটি। ২ ওভার শেষে স্কোরবোর্ড দেখে কোনটা রান আর কোনটা উইকেটের সংখ্যা বোঝা মুশকিল! শূন্য রানে ৩ উইকেট।

এরপর মার্নাস লাবুশানে ও জাভিয়ের বার্টলেট লড়াই করলেও পুঁজি বড় হয়নি। শুরুতে উইকেট হারালেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে পাল্টা আক্রমণ করে বাংলাদেশ। মাঝে দ্রুত উইকেট হারালেও জয় পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি টাইগারদের। যে জয়ে মিরপুরের মাটিতে রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক দিন—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে বাকি রইলো শুধু ইংল্যান্ড।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ উইকেটের জয়

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিন ও মোস্তাফিজের তোপের মুখে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে থেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর বৃষ্টিতে আড়াই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকায় আর ব্যাটিংয়ে নামেনি তারা। পরে বৃষ্টি আইনে ৪১ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।

৩৬ বল হাতে রেখেই সেটা টপকে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সব মিলিয়ে এ নিয়ে টানা ৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশের সিরিজ জয়।

শান্ত-সৌম্যে ভর করে রান তাড়া

রান তাড়ায় বাংলাদেশ ইনিংসের তৃতীয় বলেই উইকেট হারায়। উইকেট ছুড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শান্তও, কিন্তু ফলো থ্রুটা শেষ করে তা আর হাতে জমাতে পারেননি বার্টলেট।

এরপর অজি পেসাররা ভয় ধরালেও সেটা সামাল দেন শান্ত ও সৌম্য। দুজনে মিলে নিয়মিত বাউন্ডারি আদায় করতে থাকেন। ইনিংসের ৭ম ওভারে তাদের জুটির সঙ্গে দলের ফিফটি পূর্ণ হয়। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১ উইকেটে ৫৪। এই সময়ে শান্ত ও সৌম্য মিলে চার মেরেছেন ৮টি ও ছক্কা ১টি।

নতুন বলে অজি পেসারদের দাপট ক্রমশ কমে গিয়েছিল শান্ত ও সৌম্যের নিখুঁত ব্যাটিংয়ে। একপর্যায়ে দুজন দেখাচ্ছিলেন এই উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন নয়। ১৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান তুলে চালকের আসনে বসে স্বাগতিকরা। এরপর আচমকা ছন্দপতন।

দুই উইকেটে বদলে গেল ম্যাচের গতি

২০ বল ও ১২ রানের ব্যবধানে ফিরে যান সৌম্য সরকার ও শান্ত। ম্যাট রেনশর নীরিহ এক স্পিনে রিভার্স সুইপ খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য, ব্যাটের একদম মাথায় লেগে সেটা চলে যায় স্লিপ ফিল্ডারের হাতে। এর আগে তার ব্যাট থেকে ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রান। ১৯তম ওভারে কাট শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন শান্ত। যদিও আম্পায়ার আউট দেননি, রিভিউ নিয়ে শান্তকে ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। ফেরার আগে ৫৩ বলে ৫ চারে ৪২ রান করেন শান্ত।

এরপর লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় নতুন করে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও সেটা বড় হয়নি। ক্যামেরুন গ্রীনের এক্সট্রা বাউন্স ঘায়েল করে লিটনকে, ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক জস ইংলিস। ফেরার আগে লিটন করেন ২১ রান। ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

মিরাজ-হৃদয়ের জুটিতে জয়ের বন্দরে

প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে এদিন আর ইনিংস বড় করতে পারেননি। অ্যাডাম জাম্পাকে ছক্কা মারার এক বল পর আবার উড়াতে গিয়ে লং অফের বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। এর আগে করেন ১৪ রান।

এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও হৃদয় মিলে বাকি কাজ সারেন। দুজনের ৫১ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। হৃদয় করেন ৪০ রান আর মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান।

তাসকিন-মোস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিং

এর আগে টস হেরে বোলিং করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথম দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া—

  • প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদ ম্যাথু শর্টকে তুলে নেন

  • পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান, তার শিকার হন কুপার কোলোনি ও ম্যাট রেনশ

  • ২৫ রানের মাথায় ক্যারিকে বিদায় করে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন মোস্তাফিজ

এরপর ক্যামেরুন গ্রিনকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক জস ইংলিশ। তবে তাদের জুটি বেশি বড় হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ইংলিসকে ফিরিয়ে ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। ৬ রানের ব্যবধানে ক্যামেরুন গ্রিনকেও ড্রেসিংরুমের পথ দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার। ফেরার আগে ৫০ বলে ২৫ রান করেন তিনি। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা।

লাবুশানে-বার্টলেটের লড়াই, তাসকিনের হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা

এরপর উইকেটে গেড়ে বসেন মার্নাস লাবুশানে ও জাভিয়ের বার্টলেট। দুজনের জুটিতে চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। দুজনের ব্যাট থেকেই আসে ফিফটি, জুটিতে রানও সেঞ্চুরি পেরিয়ে যায়।

তবে এরপরই প্রত্যাবর্তন হয় তাসকিন আহমেদের। ৪১তম ওভারে আক্রমণে ফিরেই ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিফটি করা বার্টলেটের উইকেট উপড়ে ফেলেন তিনি। ফেরার আগে তিনি করেন ৪৮ বলে ৫২ রান। পরের বলেই অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন তাসকিন।

এর এক ওভার পরই মিরপুরের বৃষ্টি খেলা বন্ধ করে দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামেনি আর। বাংলাদেশের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ ও তাসকিন।

টানা চতুর্থ সিরিজ জয় বাংলাদেশের

এ জয়ের মাধ্যমে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে তারা হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এখন ইংল্যান্ড বাদে সব দলকেই ওয়ানডে সিরিজে হারানোর রেকর্ড আছে টাইগারদের। মিরপুরের মাটিতে এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জয়

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image
শেরে বাংলার গ্যালারিতে তখনও দর্শকরা হয়তো ঠিকঠাক নিজের চেয়ারেও বসতে পারেননি। এর মধ্যে তাসকিন উপড়ে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু শর্টের উইকেট। পরের ওভারে মোস্তাফিজ নিলেন আরও দুটি। ২ ওভার শেষে স্কোরবোর্ড দেখে কোনটা রান আর কোনটা উইকেটের সংখ্যা বোঝা মুশকিল! শূন্য রানে ৩ উইকেট।এরপর মার্নাস লাবুশানে ও জাভিয়ের বার্টলেট লড়াই করলেও পুঁজি বড় হয়নি। শুরুতে উইকেট হারালেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে পাল্টা আক্রমণ করে বাংলাদেশ। মাঝে দ্রুত উইকেট হারালেও জয় পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি টাইগারদের। যে জয়ে মিরপুরের মাটিতে রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক দিন—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে বাকি রইলো শুধু ইংল্যান্ড।বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ উইকেটের জয়বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিন ও মোস্তাফিজের তোপের মুখে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে থেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর বৃষ্টিতে আড়াই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকায় আর ব্যাটিংয়ে নামেনি তারা। পরে বৃষ্টি আইনে ৪১ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।৩৬ বল হাতে রেখেই সেটা টপকে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সব মিলিয়ে এ নিয়ে টানা ৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশের সিরিজ জয়।শান্ত-সৌম্যে ভর করে রান তাড়ারান তাড়ায় বাংলাদেশ ইনিংসের তৃতীয় বলেই উইকেট হারায়। উইকেট ছুড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শান্তও, কিন্তু ফলো থ্রুটা শেষ করে তা আর হাতে জমাতে পারেননি বার্টলেট।এরপর অজি পেসাররা ভয় ধরালেও সেটা সামাল দেন শান্ত ও সৌম্য। দুজনে মিলে নিয়মিত বাউন্ডারি আদায় করতে থাকেন। ইনিংসের ৭ম ওভারে তাদের জুটির সঙ্গে দলের ফিফটি পূর্ণ হয়। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১ উইকেটে ৫৪। এই সময়ে শান্ত ও সৌম্য মিলে চার মেরেছেন ৮টি ও ছক্কা ১টি।নতুন বলে অজি পেসারদের দাপট ক্রমশ কমে গিয়েছিল শান্ত ও সৌম্যের নিখুঁত ব্যাটিংয়ে। একপর্যায়ে দুজন দেখাচ্ছিলেন এই উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন নয়। ১৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান তুলে চালকের আসনে বসে স্বাগতিকরা। এরপর আচমকা ছন্দপতন।দুই উইকেটে বদলে গেল ম্যাচের গতি২০ বল ও ১২ রানের ব্যবধানে ফিরে যান সৌম্য সরকার ও শান্ত। ম্যাট রেনশর নীরিহ এক স্পিনে রিভার্স সুইপ খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য, ব্যাটের একদম মাথায় লেগে সেটা চলে যায় স্লিপ ফিল্ডারের হাতে। এর আগে তার ব্যাট থেকে ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রান। ১৯তম ওভারে কাট শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন শান্ত। যদিও আম্পায়ার আউট দেননি, রিভিউ নিয়ে শান্তকে ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। ফেরার আগে ৫৩ বলে ৫ চারে ৪২ রান করেন শান্ত।এরপর লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় নতুন করে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও সেটা বড় হয়নি। ক্যামেরুন গ্রীনের এক্সট্রা বাউন্স ঘায়েল করে লিটনকে, ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক জস ইংলিস। ফেরার আগে লিটন করেন ২১ রান। ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।মিরাজ-হৃদয়ের জুটিতে জয়ের বন্দরেপ্রথম ম্যাচের মতো এদিনও ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে এদিন আর ইনিংস বড় করতে পারেননি। অ্যাডাম জাম্পাকে ছক্কা মারার এক বল পর আবার উড়াতে গিয়ে লং অফের বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। এর আগে করেন ১৪ রান।এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও হৃদয় মিলে বাকি কাজ সারেন। দুজনের ৫১ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। হৃদয় করেন ৪০ রান আর মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান।তাসকিন-মোস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংএর আগে টস হেরে বোলিং করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথম দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া—প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদ ম্যাথু শর্টকে তুলে নেনপরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান, তার শিকার হন কুপার কোলোনি ও ম্যাট রেনশ২৫ রানের মাথায় ক্যারিকে বিদায় করে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন মোস্তাফিজএরপর ক্যামেরুন গ্রিনকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক জস ইংলিশ। তবে তাদের জুটি বেশি বড় হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ইংলিসকে ফিরিয়ে ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। ৬ রানের ব্যবধানে ক্যামেরুন গ্রিনকেও ড্রেসিংরুমের পথ দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার। ফেরার আগে ৫০ বলে ২৫ রান করেন তিনি। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা।লাবুশানে-বার্টলেটের লড়াই, তাসকিনের হ্যাটট্রিক সম্ভাবনাএরপর উইকেটে গেড়ে বসেন মার্নাস লাবুশানে ও জাভিয়ের বার্টলেট। দুজনের জুটিতে চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। দুজনের ব্যাট থেকেই আসে ফিফটি, জুটিতে রানও সেঞ্চুরি পেরিয়ে যায়।তবে এরপরই প্রত্যাবর্তন হয় তাসকিন আহমেদের। ৪১তম ওভারে আক্রমণে ফিরেই ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিফটি করা বার্টলেটের উইকেট উপড়ে ফেলেন তিনি। ফেরার আগে তিনি করেন ৪৮ বলে ৫২ রান। পরের বলেই অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন তাসকিন।এর এক ওভার পরই মিরপুরের বৃষ্টি খেলা বন্ধ করে দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামেনি আর। বাংলাদেশের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ ও তাসকিন।টানা চতুর্থ সিরিজ জয় বাংলাদেশেরএ জয়ের মাধ্যমে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে তারা হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এখন ইংল্যান্ড বাদে সব দলকেই ওয়ানডে সিরিজে হারানোর রেকর্ড আছে টাইগারদের। মিরপুরের মাটিতে এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা