জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সীমান্তকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সীমান্তবর্তী মানুষকে মিলিটারি ট্রেনিং দিতে হবে। বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত ‘সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন বলেন, সীমান্ত প্রশ্নে দল মত নির্বিশেষে এক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এ সময় গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও উমামা ফাতেমাসহ তরুণ রাজনীতিকরা।
গোলটেবিল বৈঠকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি ও বিএসএফের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষকে যদি প্রাথমিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করতে পারবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি নাগরিকরা হত্যার শিকার হচ্ছেন, অথচ এসব ঘটনার তদন্ত বা প্রতিরোধে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এনসিপির এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারা। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া কি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী নয়? জবাবে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এটি কোনো সেনাবাহিনী গঠন নয়, বরং সীমান্তবর্তী মানুষদের আত্মরক্ষার সামর্থ্য দেওয়া। অনেক দেশেই বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মৌলিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।’ এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘সীমান্তে হত্যার ঘটনা বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। তবে সীমান্তবর্তী মানুষদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা দরকার।’ এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘মহিলাদেরও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, কারণ তারাও সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করেন এবং তারা প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হন।’ গোলটেবিল বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা জোরদার করতে হবে। তারা দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সীমান্ত হত্যার ঘটনায় জাতীয় সংসদে আলোচনা এবং একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। এই আঘাত সহ্য করে চুপ করে থাকা যাবে না।’ গোলটেবিল বৈঠকে তরুণ রাজনীতিকরা সরকারের কাছে দাবি জানান, সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং পুশইনের ঘটনা বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। তারা গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান, সীমান্তের সত্য ঘটনা তুলে ধরতে এবং জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে। সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় জনগণের ভূমিকা বাড়ানো গেলে বিজিবি ও বিএসএফের ওপর চাপ কমবে এবং সীমান্ত হত্যার ঘটনা কমবে।’ তিনি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী মানুষদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে এলে এনসিপি সব ধরনের সহযোগিতা করবে। গোলটেবিল বৈঠকের শেষে অংশগ্রহণকারীরা সীমান্ত হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে একটি স্মারকলিপি প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন