ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

স্ত্রীর দেওয়া তালাক মেনে নিতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা, বুকে ছিল স্ত্রীর ছবি

স্ত্রীর দেওয়া তালাক মেনে নিতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা, বুকে ছিল স্ত্রীর ছবি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে স্ত্রীর দেওয়া তালাকের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে উপজেলার ১১ নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের উত্তর পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শান্ত ওই গ্রামের মো. আবুল বাসারের ছেলে। তার দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে স্ত্রী তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক আয়োজনের কথা ছিল। তবে সালিশ শুরু হওয়ার আগেই নিজ বাড়ির একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শান্তকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনাটির একটি আবেগঘন দিক নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর সময় শান্ত তার বুকে স্ত্রীর একটি ছবি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ধারণা, দাম্পত্য বিরোধ ও তালাকের বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহত শান্তর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন। তালাকের সিদ্ধান্ত তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেছেন, ‘তারা সালিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু এর আগেই এই ঘটনা ঘটে। এটি সত্যিই মর্মান্তিক।’ নিহতের স্ত্রী ও শিশু সন্তান এখন শোকে মুহ্যমান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের বয়সী ভাইয়েরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো কথা শুনতে চাননি। তার বাবা আবুল বাসার বলেন, ‘আমার ছেলে তার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসত। তালাকের খবর শোনার পর থেকেই সে অন্যমনস্ক ছিল। আমরা কেউ ভাবিনি সে এত বড় সিদ্ধান্ত নেবে।’ এলাকাবাসী এই ঘটনায় শোকাহত। তারা বলেছেন, পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের জটিলতা সমাধানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে পরিবারকে সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ সেবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা আবারও পারিবারিক কলহ ও তালাকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের জটিলতা মোকাবিলায় মানসিক পরামর্শ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় এমন ট্র্যাজেডি ঘটতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


স্ত্রীর দেওয়া তালাক মেনে নিতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা, বুকে ছিল স্ত্রীর ছবি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে স্ত্রীর দেওয়া তালাকের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে উপজেলার ১১ নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের উত্তর পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শান্ত ওই গ্রামের মো. আবুল বাসারের ছেলে। তার দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে স্ত্রী তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক আয়োজনের কথা ছিল। তবে সালিশ শুরু হওয়ার আগেই নিজ বাড়ির একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শান্তকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটির একটি আবেগঘন দিক নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর সময় শান্ত তার বুকে স্ত্রীর একটি ছবি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ধারণা, দাম্পত্য বিরোধ ও তালাকের বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহত শান্তর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন। তালাকের সিদ্ধান্ত তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেছেন, ‘তারা সালিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু এর আগেই এই ঘটনা ঘটে। এটি সত্যিই মর্মান্তিক।’ নিহতের স্ত্রী ও শিশু সন্তান এখন শোকে মুহ্যমান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের বয়সী ভাইয়েরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো কথা শুনতে চাননি। তার বাবা আবুল বাসার বলেন, ‘আমার ছেলে তার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসত। তালাকের খবর শোনার পর থেকেই সে অন্যমনস্ক ছিল। আমরা কেউ ভাবিনি সে এত বড় সিদ্ধান্ত নেবে।’ এলাকাবাসী এই ঘটনায় শোকাহত। তারা বলেছেন, পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের জটিলতা সমাধানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে পরিবারকে সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ সেবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা আবারও পারিবারিক কলহ ও তালাকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের জটিলতা মোকাবিলায় মানসিক পরামর্শ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় এমন ট্র্যাজেডি ঘটতে পারে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা