ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ডিম-বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব

ডিম-বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা ২৪টি ডিম ও ২২ প্যাকেট বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাকে জরুরি ভিত্তিতে কৈফিয়ত তলব করেছে। রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে স্কুল ফিডিংয়ের সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অফিস আদেশ জারি করে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে তিনি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা ২৪টি ডিম ও ২২ প্যাকেট বিস্কুট নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দকৃত খাবারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আত্মসাতের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এছাড়া, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি থেকে একটি ডিম বা বিস্কুটও কোনো শিক্ষার্থী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অধিকার নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও জানান, দেশের সব স্কুলে এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে এমন অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি জানান, শিক্ষিকা রেশমা আক্তারকে শোকজ করা হয়েছে এবং তার জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনার একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


ডিম-বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা ২৪টি ডিম ও ২২ প্যাকেট বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাকে জরুরি ভিত্তিতে কৈফিয়ত তলব করেছে। রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে স্কুল ফিডিংয়ের সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অফিস আদেশ জারি করে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে তিনি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা ২৪টি ডিম ও ২২ প্যাকেট বিস্কুট নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দকৃত খাবারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আত্মসাতের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এছাড়া, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি থেকে একটি ডিম বা বিস্কুটও কোনো শিক্ষার্থী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অধিকার নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও জানান, দেশের সব স্কুলে এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে এমন অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি জানান, শিক্ষিকা রেশমা আক্তারকে শোকজ করা হয়েছে এবং তার জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনার একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা