ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ঢাকায় দুই বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার, হাসপাতালে অবস্থা আশঙ্কাজনক

ঢাকায় দুই বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার, হাসপাতালে অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার কাওলা এলাকায় দুই বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সোমবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

শিশুটির মামা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণখানের কাওলা শেখবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসায় শিশুটিকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে তার মা প্রতিদিনের মতো কাজে যান। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কাজ শেষে ফিরে তিনি মেয়েকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় পাশের বাসার এক কিশোরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা অবস্থার অবনতি দেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ভাষ্যে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নরসিংদীর রায়পুরা থানার সোনাবালুয়া গ্রামে শিশুটির পৈতৃক বাড়ি হলেও পরিবারের সঙ্গে সে দক্ষিণখানের শেখবাড়ি কাওলায় বসবাস করত। তার মা গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, দক্ষিণখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং বিষয়টি দক্ষিণখান থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, শিশুটির মা অত্যন্ত সাবধানে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু এতটুকু সময়ের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে গেল। ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্ত কিশোরকে শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিশুটির মা বর্তমানে হাসপাতালে মেয়ের পাশে রয়েছেন এবং তিনি দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। দুই বছরের এই শিশুটির ওপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন। অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে। প্রশাসনকে এই ধরনের অপরাধ রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে এবং নিরপরাধ শিশুরা এর শিকার হবে। সবার উচিত শিশু নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। এলাকাবাসীও তাদের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। আশা করা যায়, পুলিশ দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারবে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই যেন সচেতন হয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে, সেটাই প্রত্যাশা।

বিষয় : শিশু ধর্ষণ

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


ঢাকায় দুই বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার, হাসপাতালে অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
রাজধানীর দক্ষিণখান থানার কাওলা এলাকায় দুই বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সোমবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।শিশুটির মামা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণখানের কাওলা শেখবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসায় শিশুটিকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে তার মা প্রতিদিনের মতো কাজে যান। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কাজ শেষে ফিরে তিনি মেয়েকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় পাশের বাসার এক কিশোরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা অবস্থার অবনতি দেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ভাষ্যে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।নরসিংদীর রায়পুরা থানার সোনাবালুয়া গ্রামে শিশুটির পৈতৃক বাড়ি হলেও পরিবারের সঙ্গে সে দক্ষিণখানের শেখবাড়ি কাওলায় বসবাস করত। তার মা গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, দক্ষিণখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং বিষয়টি দক্ষিণখান থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, শিশুটির মা অত্যন্ত সাবধানে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু এতটুকু সময়ের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে গেল। ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্ত কিশোরকে শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিশুটির মা বর্তমানে হাসপাতালে মেয়ের পাশে রয়েছেন এবং তিনি দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। দুই বছরের এই শিশুটির ওপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন। অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে। প্রশাসনকে এই ধরনের অপরাধ রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে এবং নিরপরাধ শিশুরা এর শিকার হবে। সবার উচিত শিশু নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। এলাকাবাসীও তাদের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। আশা করা যায়, পুলিশ দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারবে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই যেন সচেতন হয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে, সেটাই প্রত্যাশা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা