ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাকে দিয়ে শিশুশিক্ষার্থীকে ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ, বিভাগীয় মামলা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাকে দিয়ে শিশুশিক্ষার্থীকে ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ, বিভাগীয় মামলা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ (মালিশ) করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, গত ৫ জুলাই চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এক শিশু শিক্ষার্থী দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে গত ৬ জুলাই ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে উক্ত বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা, ২০১৮) এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে কাজলী আক্তার একটি বিছানায় শুয়ে আছেন। এ সময় এক শিশু শিক্ষার্থী তার শরীর ম্যাসাজ করে দিচ্ছে। একই কক্ষে উপস্থিত অপর দুই সহকারী শিক্ষিকা, ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন ও মনি আক্তার, চেয়ারে বসে ছিলেন। তাদের একজন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন, অপরজন গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। এ বিষয়ে রবিউল ইসলাম জানান, শিক্ষিকা কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্য দিবসে তাকে সন্তুষ্টজনক জবাব দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষকরা শিশুদের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত, কিন্তু এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অভিভাবকদের একজন বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই পড়াশোনা শেখানোর জন্য, কিন্তু তারা সেখানে শিক্ষকের এই ধরনের ব্যবহার দেখে কী শিখবে?’ আরেকজন অভিভাবক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষিকার এ ধরনের আচরণ শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’ স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এই ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তারা শিক্ষিকাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রাখেন। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসন—সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ হয়ে উঠবে। এই ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নিক। শিক্ষকেরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হন। তারা শিশুদের জন্য আদর্শ স্থাপন করুন। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর একটি সমাজ পাবে। নীলফামারীতে এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। এখন প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে অন্যরা এ ধরনের কাজ করতে সাহস পাবে না। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা আশা করছি। শিক্ষিকা কাজলী আক্তারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি করবে। তারা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। অভিভাবকরা চান, তাদের সন্তানরা যেন নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এই ঘটনা তাদের আস্থায় আঘাত হেনেছে। প্রশাসনকে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবক—সবাইকে মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাহলেই শিশুরা নিরাপদ থাকবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে। নীলফামারীতে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাকে দিয়ে শিশুশিক্ষার্থীকে ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ, বিভাগীয় মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ (মালিশ) করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, গত ৫ জুলাই চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এক শিশু শিক্ষার্থী দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে গত ৬ জুলাই ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে উক্ত বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা, ২০১৮) এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে কাজলী আক্তার একটি বিছানায় শুয়ে আছেন। এ সময় এক শিশু শিক্ষার্থী তার শরীর ম্যাসাজ করে দিচ্ছে। একই কক্ষে উপস্থিত অপর দুই সহকারী শিক্ষিকা, ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন ও মনি আক্তার, চেয়ারে বসে ছিলেন। তাদের একজন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন, অপরজন গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। এ বিষয়ে রবিউল ইসলাম জানান, শিক্ষিকা কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্য দিবসে তাকে সন্তুষ্টজনক জবাব দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষকরা শিশুদের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত, কিন্তু এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অভিভাবকদের একজন বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই পড়াশোনা শেখানোর জন্য, কিন্তু তারা সেখানে শিক্ষকের এই ধরনের ব্যবহার দেখে কী শিখবে?’ আরেকজন অভিভাবক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষিকার এ ধরনের আচরণ শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’ স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এই ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তারা শিক্ষিকাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রাখেন। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসন—সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ হয়ে উঠবে। এই ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নিক। শিক্ষকেরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হন। তারা শিশুদের জন্য আদর্শ স্থাপন করুন। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর একটি সমাজ পাবে। নীলফামারীতে এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। এখন প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে অন্যরা এ ধরনের কাজ করতে সাহস পাবে না। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা আশা করছি। শিক্ষিকা কাজলী আক্তারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি করবে। তারা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। অভিভাবকরা চান, তাদের সন্তানরা যেন নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এই ঘটনা তাদের আস্থায় আঘাত হেনেছে। প্রশাসনকে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবক—সবাইকে মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাহলেই শিশুরা নিরাপদ থাকবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে। নীলফামারীতে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা