ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ট্রাম্পের ‘শান্তি চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান ফিলিস্তিনিদের

ট্রাম্পের ‘শান্তি চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান ফিলিস্তিনিদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় একটি কথিত শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা ‘ভুল’ ও ‘বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনিরা। তাদের দাবি, গাজায় অস্ত্র হস্তান্তর বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থা কেবলমাত্র ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার এবং আগ্রাসন বন্ধের পরই বিবেচনা করা যেতে পারে।

ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, ট্রাম্প যে ধরনের সমঝোতার কথা বলেছেন, তা বাস্তবে চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি থাকলেও এখনো বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা ও অবরোধ প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ এবং যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব—এসব বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত বাস্তবায়নে যাচ্ছে না।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তার উদ্যোগে গাজার সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় মিসর, কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে এবং এটি গাজার জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথ প্রশস্ত করবে।

তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বলছে, ট্রাম্পের বক্তব্যে বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন নেই। অস্ত্রের বিষয়টি কোনো প্রাথমিক শর্ত নয়; বরং এটি একটি সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ, যা নির্ভর করবে ইসরাইল তার প্রতিশ্রুতি—বিশেষ করে সেনা প্রত্যাহার ও সামরিক অভিযান বন্ধ—বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর।

ফিলিস্তিনি নেতারা আরো বলেন, গাজাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং অঞ্চলটির ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নিয়ে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্ন বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং বাইরের কোনো পক্ষ একতরফাভাবে তার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।

এদিকে বিবিসি, আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, আল-মায়াদীনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইল নিরস্ত্রীকরণকে সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখতে চাইছে; অন্যদিকে ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, সেনা প্রত্যাহারই হতে হবে প্রথম পদক্ষেপ। এ কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হওয়ার আগে উভয় পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান দূর করা প্রয়োজন।

সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রোনিকল, রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


ট্রাম্পের ‘শান্তি চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান ফিলিস্তিনিদের

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় একটি কথিত শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা ‘ভুল’ ও ‘বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনিরা। তাদের দাবি, গাজায় অস্ত্র হস্তান্তর বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থা কেবলমাত্র ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার এবং আগ্রাসন বন্ধের পরই বিবেচনা করা যেতে পারে।ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, ট্রাম্প যে ধরনের সমঝোতার কথা বলেছেন, তা বাস্তবে চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি থাকলেও এখনো বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা ও অবরোধ প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ এবং যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব—এসব বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত বাস্তবায়নে যাচ্ছে না।এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তার উদ্যোগে গাজার সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় মিসর, কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে এবং এটি গাজার জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথ প্রশস্ত করবে।তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বলছে, ট্রাম্পের বক্তব্যে বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন নেই। অস্ত্রের বিষয়টি কোনো প্রাথমিক শর্ত নয়; বরং এটি একটি সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ, যা নির্ভর করবে ইসরাইল তার প্রতিশ্রুতি—বিশেষ করে সেনা প্রত্যাহার ও সামরিক অভিযান বন্ধ—বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর।ফিলিস্তিনি নেতারা আরো বলেন, গাজাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং অঞ্চলটির ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নিয়ে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্ন বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং বাইরের কোনো পক্ষ একতরফাভাবে তার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।এদিকে বিবিসি, আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, আল-মায়াদীনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইল নিরস্ত্রীকরণকে সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখতে চাইছে; অন্যদিকে ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, সেনা প্রত্যাহারই হতে হবে প্রথম পদক্ষেপ। এ কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হওয়ার আগে উভয় পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান দূর করা প্রয়োজন।সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রোনিকল, রয়টার্স

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা