ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনে ইরানি বিশেষ বাহিনী

বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনে ইরানি বিশেষ বাহিনী

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাব-এল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে নিজেদের বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)-এর শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে ইরান। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছে ইরানি এই বাহিনী। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে।

টানা সংঘর্ষের পর ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগত ‘মোখা’ বন্দরটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এই বন্দরটি ‘বাব-এল-মান্দেব প্রণালি’র খুব কাছে হওয়ায় পুরো সমুদ্রপথটি এখন হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার কারণে আগে থেকেই ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে আছে। এর ওপর ‘বাব-এল-মান্দেব প্রণালি’ ও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ধাক্কা খাবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তখন সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

যদিও ইরান বরাবরের মতো এবারও হুথিদের সরাসরি পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, যা জ্বালানি খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতোমধ্যে এই ইস্যুতে জরুরি বৈঠক করার কথা ভাবছে। তবে ইরান ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি এড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনে ইরানি বিশেষ বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাব-এল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে নিজেদের বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)-এর শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে ইরান। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছে ইরানি এই বাহিনী। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে।টানা সংঘর্ষের পর ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগত ‘মোখা’ বন্দরটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এই বন্দরটি ‘বাব-এল-মান্দেব প্রণালি’র খুব কাছে হওয়ায় পুরো সমুদ্রপথটি এখন হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার কারণে আগে থেকেই ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে আছে। এর ওপর ‘বাব-এল-মান্দেব প্রণালি’ ও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ধাক্কা খাবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তখন সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।যদিও ইরান বরাবরের মতো এবারও হুথিদের সরাসরি পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, যা জ্বালানি খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতোমধ্যে এই ইস্যুতে জরুরি বৈঠক করার কথা ভাবছে। তবে ইরান ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি এড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা