নেপালের ধুং খোলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা একটি চিতাবাঘ খাঁচা ভেঙে এক বনকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) লামজুং ডিভিশন ফরেস্ট অফিসে এই ঘটনাটি ঘটে এবং এর একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, চিতাবাঘটিকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল। দুই ব্যক্তি সেটিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বড় একটি খাঁচায় তোলার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সে সময় হঠাৎ চিতাবাঘটি খাঁচার দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং একজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার শিকার ব্যক্তি প্রাণপণে চিতাবাঘটিকে নিজের ওপর থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন। এই সময় পাশে থাকা অন্য একজন লোহার রড দিয়ে চিতাবাঘটিকে আঘাত করেন। পরবর্তীতে চিতাবাঘটিকে ভবনের বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বন কর্মকর্তারা ব্যারিকেড ও খাঁচা ব্যবহার করে সেটিকে পুনরায় ধরার চেষ্টা চালান।
এই হামলায় বনরক্ষী বুদ্ধি জং গুরুঙ (৫৭) আহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত চিতাবাঘটিকে পুনরায় ধরা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, নেপালে প্রায়শই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এমন ঘটনা ঘটলে পুলিশ ও বন কর্মকর্তাদের খবর দেওয়া হয়। জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ ট্রাস্টের (এনটিএনসি) একটি কারিগরি দল গিয়ে প্রাণীকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে উদ্ধার করে। চিতাবাঘটি সুস্থ হলে পরবর্তীতে সেটিকে জাতীয় উদ্যান বা ঘন বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চেতনানাশক ওষুধের মাত্রা বা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে বন্যপ্রাণী হঠাৎ জেগে উঠে আক্রমণাত্মক হয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকাজে আরও সতর্কতা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে আহত বনকর্মী বুদ্ধি জং গুরুঙকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বন বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন