ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত, তেল পাইপলাইনও বন্ধ

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত, তেল পাইপলাইনও বন্ধ

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে।

তিনি জানান, ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন পরিচালনায় ব্যবহৃত ওই ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি তিনি।

হুথি মুখপাত্র দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সামরিক ঘাঁটিটি থেকে ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল, যার জবাবে এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে তুমুল সংঘাত শুরু হয়েছে।

হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনে একটি পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে সৌদি জ্বালানি তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প মাধ্যম ছিল এই পাইপলাইনটি। আকস্মিক হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন আপাতত পুরোপুরি স্থগিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হুথিরা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় আমরা যেন তাদের অভিযানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ না করি।’

একই সঙ্গে সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে তেহরান এ হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিদের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াবে। সৌদির সামরিক ঘাঁটি ও তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। সৌদি আরব হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত, তেল পাইপলাইনও বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে।তিনি জানান, ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন পরিচালনায় ব্যবহৃত ওই ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি তিনি।হুথি মুখপাত্র দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সামরিক ঘাঁটিটি থেকে ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল, যার জবাবে এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে তুমুল সংঘাত শুরু হয়েছে।হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনে একটি পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে সৌদি জ্বালানি তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প মাধ্যম ছিল এই পাইপলাইনটি। আকস্মিক হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন আপাতত পুরোপুরি স্থগিত হয়ে পড়েছে।এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হুথিরা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় আমরা যেন তাদের অভিযানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ না করি।’একই সঙ্গে সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে তেহরান এ হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিদের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াবে। সৌদির সামরিক ঘাঁটি ও তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। সৌদি আরব হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা