সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে কর্নেল মতিউর রহমান সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেন নামের এক আসামিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান তিনি। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এল।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন যে, ১৯৮১ সালের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামেও গিয়েছিলেন। এর ঠিক দুই দিন পর, অর্থাৎ ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেন কর্নেল মতিউর রহমান। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জোহা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪৪ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের অতর্কিত হামলায় নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে চার দশক পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মামলার পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায়ও গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনি। গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। বর্তমানে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের অভিযোগে তাকে তদন্ত সংস্থার হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, মোজাফফর হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কর্নেল মতিউরের নাম সামনে এসেছে। কর্নেল মতিউরের বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে আরও কারা জড়িত ছিলেন, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন