ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
গণবার্তা

শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশেই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশেই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

খুলনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।”

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।

তিনি বলেন, “তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে।

শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, “তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।”

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।

শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।”

তারেক রহমান বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দিতে হবে না; বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই দেশ তোমাদের। তোমাদেরই এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”


উদ্বোধনের বিবরণ

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী গ্যালারিতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে এগিয়ে যান। তাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে হাজারো শিশু-কিশোর। তারা করতালি ও হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।


প্রতিযোগিতার বিস্তারিত

এবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল।

চীনা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চীনের ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্স পরিবেশনা। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে আসা একদল শিক্ষার্থী এ পরিবেশনা করেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে চীনা শিক্ষার্থীরা তাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী এই নৃত্য পরিবেশন করেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির মধ্যে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিনিময় কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর আওতায় বিকেএসপির প্রশিক্ষকেরা চীনা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষকেরা বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট উশু প্রশিক্ষণ দেন। পাশাপাশি চীনা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও ডাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বিকেএসপির ক্রীড়াবিদেরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশেই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
খুলনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।”শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।তিনি বলেন, “তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।”প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে।শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, “তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।”নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।তিনি বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।তিনি বলেন, “তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।”তারেক রহমান বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দিতে হবে না; বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই দেশ তোমাদের। তোমাদেরই এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”উদ্বোধনের বিবরণএর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী গ্যালারিতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে এগিয়ে যান। তাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে হাজারো শিশু-কিশোর। তারা করতালি ও হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।প্রতিযোগিতার বিস্তারিতএবারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারা দেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল।চীনা সাংস্কৃতিক পরিবেশনাউদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চীনের ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্স পরিবেশনা। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে আসা একদল শিক্ষার্থী এ পরিবেশনা করেন।বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে চীনা শিক্ষার্থীরা তাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী এই নৃত্য পরিবেশন করেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির মধ্যে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিনিময় কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর আওতায় বিকেএসপির প্রশিক্ষকেরা চীনা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষকেরা বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট উশু প্রশিক্ষণ দেন। পাশাপাশি চীনা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও ডাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বিকেএসপির ক্রীড়াবিদেরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা