গণবার্তা

বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দুই পুলিশ সদস্যের

বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দুই পুলিশ সদস্যের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁরা পেলেন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ এসআই বিভূতি ভূষণ রায়।

এছাড়া বেরোবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ ও সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেরোবির দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে যথাক্রমে ১০ ও ১২ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর ও আরও পাঁচজনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চিৎকার করেন, ‘আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন বলেন, ‘আমি পুলিশের চাকরি করি। হুকুমের গোলাম। আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে? আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি তাই করেছি।’

মামলার পটভূমি

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার আছেন, বাকিরা পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন চন্দন।

আবু সাঈদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদদের একজন। তার মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। এই রায়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজীবী ও ভিকটিম পরিবার। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিষয় : শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দুই পুলিশ সদস্যের

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁরা পেলেনমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ এসআই বিভূতি ভূষণ রায়।এছাড়া বেরোবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ ও সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেরোবির দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে যথাক্রমে ১০ ও ১২ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর ও আরও পাঁচজনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আসামিদের প্রতিক্রিয়ারায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চিৎকার করেন, ‘আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।’মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন বলেন, ‘আমি পুলিশের চাকরি করি। হুকুমের গোলাম। আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে? আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি তাই করেছি।’মামলার পটভূমি২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার আছেন, বাকিরা পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন চন্দন।আবু সাঈদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদদের একজন। তার মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। এই রায়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজীবী ও ভিকটিম পরিবার। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা