মিরপুর টেস্টে পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে স্বস্তি নিয়ে চা বিরতিতে গিয়েছিল পাকিস্তান। হাতে ছিল ৭ উইকেট, ক্রিজে ছিলেন অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল (৬৬) ও অধিনায়ক সালমান আগা (২১), দরকার ছিল ১৫২ রান। কিন্তু শেষ সেশনে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার আগুন ঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তান মাত্র ৪৭ রান করতেই বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন নাহিদ। এতে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানে হারে। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ ডি. (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬)
পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত (১০১ ও ৮৭)
২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদ প্রথম ওভারেই ফেরান ইমাম-উল হক (২)। আজান আউয়াইস (১৫) ও শান মাসুদ (২) আউট হন। ৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে ফজল ও সালমান ৫১ রানের জুটি গড়লেও ফজলকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল (১১৩ বলে ১১ চারে ৬৬)। পরের ওভারে সালমানকে ফেরান তাসকিন (২৬)।
পাঁচ উইকেট পড়ার পরও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। রিজওয়ান ও শাকিল টিকতে চাইলেও নাহিদ রানা টানা দুই ওভারে শাকিল (১৫) ও রিজওয়ানকে (১৫) ফেরান। এরপর হাসান আলিকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল (১)। শেষ দুই উইকেট (আব্বাস ও শাহিন) নেন নাহিদ। মাত্র ৪০ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ জেতান তরুণ এই পেসার।
ম্যাচসেরা নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘দলের সবার পারফরম্যান্সে খুব খুশি। গত কয়েক মাস ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। টেস্ট ক্রিকেটে ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। এটা আমাদের সবসময় কাঙ্ক্ষিত ছিল। কেন ঘোষণা করলাম? কারণ আমাদের দারুণ বোলিং আক্রমণ আছে, নাহিদ, তাসকিন, তাইজুল দারুণ বোলিং করেছে। আমি সবসময় দলের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিই।’
পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ বলেন, ‘আমরা প্রথম ইনিংসে ব্যাট ও বল হাতে আরও ভালো করতে পারতাম। যখন হাতে খেলা থাকে, প্রতিপক্ষকে দূরে সরিয়ে দেয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। ডেবিউ খেলোয়াড়রা (ফজল ও আউয়াইস) পরিণতির পরিচয় দিয়েছে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ২০০২ সালে ঢাকায় প্রথম টেস্টের পর দুই দশকের বেশি সময়ে এই জয়ের অপেক্ষায় ছিল টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি (১০১) ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানে তিনি অপরাজিত থেকে হলুদ সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রানে বঞ্চিত হন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন