ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
গণবার্তা

উদীয়মান তারকা আইয়ুব বুয়াদ্দির পারফর্মেন্স নজর কেড়েছে বিশ্বের

 উদীয়মান তারকা আইয়ুব বুয়াদ্দির পারফর্মেন্স নজর কেড়েছে বিশ্বের

বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মাঝমাঠকে রীতিমতো ‘বোতলবন্দি’ করে ফেলেছেন মরক্কোর ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সের যুব দল ছেড়ে মরক্কোর জার্সি গায়ে চাপা এই তরুণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একের পর এক অভিজ্ঞ তারকাকে চমকে দিয়েছেন।

শনিবার রাতের ম্যাচটি ছিল গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম পর্ব। ইসমায়েল সাইবেরির গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মরক্কো। তবে ম্যাচের আসল আলোচনা জুড়ে ছিল বুয়াদ্দির পারফরম্যান্স।

কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি অবশ্য এই পারফরম্যান্সে মোটেও বিস্মিত নন। ম্যাচ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওর বয়স ১৮ বলেই তাকে খেলানোটা কোনো ঝুঁকি ছিল না। আমি শুধু পারফরম্যান্স দেখি, বয়স নয়। ও ভালো খেললে ৩৫ বছর হলেও খেলবে, ১৭ হলেও খেলবে।”

প্রথম ম্যাচেই কেন এমন আত্মবিশ্বাস?

কোচের উত্তর স্পষ্ট। বুয়াদ্দি নতুন খেলোয়াড় হলেও অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে নন। গত অক্টোবরে ১৮ বছরে পা দেওয়া এই মিডফিল্ডার ইতোমধ্যে ফরাসি লিগ ওয়ানে ৬৩টি ম্যাচ খেলেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লিলের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও তিনি দারুণ খেলেছিলেন।

মরক্কো কোচ যোগ করেন, “আমি তরুণদের খেলাতে ভয় পাই না। আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে ও দারুণ খেলবে। ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে এটা ঝুঁকি নেওয়ার ম্যাচ ছিল না। হয়তো ও নতুন বলে সবাই রোমাঞ্চিত, কিন্তু ওর অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি নেই।”

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, বুয়াদ্দি মরক্কোর হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৭ বার বল স্পর্শ করেছেন, ৬০টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন এবং ৩টি সফল ড্রিবলিং করেছেন। তবে আসল কীর্তি হলো, তিনি প্রথমার্ধে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাসেমিরোকে পুরোপুরি বোতলবন্দি করে রাখেন। কাসেমিরোকে তুলে নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নামানো হয় ফাবিনহোকে। কিন্তু তিনিও বুয়াদ্দির সামনে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেননি।

বুয়াদ্দির জন্ম ফ্রান্সে। দেশটির যুব দল ও অনূর্ধ্ব-২১ দলেও খেলেছেন। কিন্তু বাবা-মায়ের জন্মসূত্রে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ ছিল তার। গত মাসে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মরক্কোর হয়ে খেলার। ২ জুন মাদাগাস্কারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তার অভিষেক হয়। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি দেখিয়ে দিলেন, সিদ্ধান্তটি কতটা সঠিক ছিল।

মরক্কোর মাঝমাঠ এখন তরুণদের দখলে। এই ম্যাচে বুয়াদ্দির সঙ্গী ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নেইল এল আয়নাউই। পরে মাঠে নামেন স্ট্রাসবার্গের ২০ বছর বয়সী সামির এল মুরাবেত। ম্যাচের শেষ দিকে মরক্কোর মাঝমাঠ পুরোপুরি তরুণদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

কোচ ওয়াহবি বলেন, “মাঝমাঠে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক খেলোয়াড় আছে। আইয়ুব, এল আয়নাউই, সামির সবাই ভালো খেলেছে। সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা আরও ভালো করব।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল বুয়াদ্দি। ম্যাচ শেষে ইতালীয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভক্তদের কাছে ম্যাচসেরার নাম চান। সিংহভাগ মন্তব্যই ছিল বুয়াদ্দির নামে। এক ভক্ত লিখেছেন, “আজ রাতে বুয়াদ্দির শান্ত ও সংযত খেলা ছিল অসাধারণ। আমাদের চোখে ওই ম্যাচসেরা।”

মরক্কোর পরবর্তী ম্যাচ ১৯ জুন ফক্সবরোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। তার আগেই বুয়াদ্দি বিশ্বফুটবলকে জানিয়ে দিয়েছেন, বয়স কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না—প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস থাকলেই বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে লড়াই করা যায়।

বিষয় : মরক্কো আইয়ুব বুয়াদ্দি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


উদীয়মান তারকা আইয়ুব বুয়াদ্দির পারফর্মেন্স নজর কেড়েছে বিশ্বের

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মাঝমাঠকে রীতিমতো ‘বোতলবন্দি’ করে ফেলেছেন মরক্কোর ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সের যুব দল ছেড়ে মরক্কোর জার্সি গায়ে চাপা এই তরুণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একের পর এক অভিজ্ঞ তারকাকে চমকে দিয়েছেন।শনিবার রাতের ম্যাচটি ছিল গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম পর্ব। ইসমায়েল সাইবেরির গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মরক্কো। তবে ম্যাচের আসল আলোচনা জুড়ে ছিল বুয়াদ্দির পারফরম্যান্স।কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি অবশ্য এই পারফরম্যান্সে মোটেও বিস্মিত নন। ম্যাচ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওর বয়স ১৮ বলেই তাকে খেলানোটা কোনো ঝুঁকি ছিল না। আমি শুধু পারফরম্যান্স দেখি, বয়স নয়। ও ভালো খেললে ৩৫ বছর হলেও খেলবে, ১৭ হলেও খেলবে।”প্রথম ম্যাচেই কেন এমন আত্মবিশ্বাস?কোচের উত্তর স্পষ্ট। বুয়াদ্দি নতুন খেলোয়াড় হলেও অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে নন। গত অক্টোবরে ১৮ বছরে পা দেওয়া এই মিডফিল্ডার ইতোমধ্যে ফরাসি লিগ ওয়ানে ৬৩টি ম্যাচ খেলেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লিলের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও তিনি দারুণ খেলেছিলেন।মরক্কো কোচ যোগ করেন, “আমি তরুণদের খেলাতে ভয় পাই না। আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে ও দারুণ খেলবে। ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে এটা ঝুঁকি নেওয়ার ম্যাচ ছিল না। হয়তো ও নতুন বলে সবাই রোমাঞ্চিত, কিন্তু ওর অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি নেই।”ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, বুয়াদ্দি মরক্কোর হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৭ বার বল স্পর্শ করেছেন, ৬০টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন এবং ৩টি সফল ড্রিবলিং করেছেন। তবে আসল কীর্তি হলো, তিনি প্রথমার্ধে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাসেমিরোকে পুরোপুরি বোতলবন্দি করে রাখেন। কাসেমিরোকে তুলে নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নামানো হয় ফাবিনহোকে। কিন্তু তিনিও বুয়াদ্দির সামনে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেননি।বুয়াদ্দির জন্ম ফ্রান্সে। দেশটির যুব দল ও অনূর্ধ্ব-২১ দলেও খেলেছেন। কিন্তু বাবা-মায়ের জন্মসূত্রে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ ছিল তার। গত মাসে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মরক্কোর হয়ে খেলার। ২ জুন মাদাগাস্কারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তার অভিষেক হয়। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি দেখিয়ে দিলেন, সিদ্ধান্তটি কতটা সঠিক ছিল।মরক্কোর মাঝমাঠ এখন তরুণদের দখলে। এই ম্যাচে বুয়াদ্দির সঙ্গী ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নেইল এল আয়নাউই। পরে মাঠে নামেন স্ট্রাসবার্গের ২০ বছর বয়সী সামির এল মুরাবেত। ম্যাচের শেষ দিকে মরক্কোর মাঝমাঠ পুরোপুরি তরুণদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।কোচ ওয়াহবি বলেন, “মাঝমাঠে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক খেলোয়াড় আছে। আইয়ুব, এল আয়নাউই, সামির সবাই ভালো খেলেছে। সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা আরও ভালো করব।”সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল বুয়াদ্দি। ম্যাচ শেষে ইতালীয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভক্তদের কাছে ম্যাচসেরার নাম চান। সিংহভাগ মন্তব্যই ছিল বুয়াদ্দির নামে। এক ভক্ত লিখেছেন, “আজ রাতে বুয়াদ্দির শান্ত ও সংযত খেলা ছিল অসাধারণ। আমাদের চোখে ওই ম্যাচসেরা।”মরক্কোর পরবর্তী ম্যাচ ১৯ জুন ফক্সবরোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। তার আগেই বুয়াদ্দি বিশ্বফুটবলকে জানিয়ে দিয়েছেন, বয়স কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না—প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস থাকলেই বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে লড়াই করা যায়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা