ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। সোমবার ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ে আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিম শিশুর পরিবার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্ত আবু তাহের। এ ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়াবাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রবিবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাদেডিহি গ্রামে শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। রায়ের পর শিশুর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের হত্যাকারীর যেন দ্রুত ফাঁসি হয়, আমরা সেটাই চাই।’ শিশুর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না, অন্তত তার হত্যাকারীকে যথাযথ শাস্তি দিয়েছেন আদালত।’
ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই রায় সমাজে একটি বার্তা পাঠাবে যে, শিশু নির্যাতনের অপরাধ কখনোই ক্ষমা করা হবে না।’ রায়ের পর আসামি আবু তাহেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামি চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা আশা করেন, এই রায় অন্যান্য সম্ভাব্য অপরাধীদেরও সতর্ক করবে। সরকার ঘোষিত বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র চার মাসের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় আইনবিভাগের কর্মকর্তারা প্রশংসিত হয়েছেন। এই দ্রুত বিচার শিশু নির্যাতনের শিকারদের ন্যায়বিচার পেতে আরও সাহস দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন