ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

তরুণদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের জন্য বাজেটে কিছু বাকি রাখা হয়নি। সবকিছু দিয়েছি ইয়ং জেনারেশনের জন্য এই বাজেটে। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সবাইকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। টাকা-পয়সা যেটা বাইরে থেকে ইনকাম করবা, টাকা আনার যে প্ল্যাটফর্ম সেটা আমরা ওপেন করে দিয়েছি। ফর্ম আর ফিলাপ করতে হবে না। ১০ টাকা আনলে আগে ফর্ম ফিলাপ করতে হতো। আপ টু ফাইভ থাউজেন্ড ডলার ইউ ক্যান ব্রিং, কোনো ঝামেলা নাই। তারপরও ফ্রি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমাউন্ট বড় হলে হয়তো একটু জানাতে হবে। কিন্তু রেমিটেন্স প্ল্যাটফর্ম একদম ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ডে যারা প্ল্যাটফর্ম আছে, যারা ট্রানজেকশন করে, তাদের বলেছি- কাম অ্যান্ড ওপেন ইট ইন বাংলাদেশ। অনেকে আসতেছে অলরেডি। এরই মধ্যে পেপ্যাল, আরও তিন-চারটা আছে। সবাই আসছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের অপরচুনিটি আমরা ওপেন করতে চাচ্ছি,’ যোগ করেন আমির খসরু।

ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিম ফ্রি করে দিয়েছি। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যত কিছু আছে সব কিছু কমিয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা ডিজিটাল দেশ হতে চাই। মুখের কথায় ডিজিটাল নয়, রিয়েল ডিজিটাল হতে চাই। পুরো দেশের পুরো বিষয়টাকে আমরা অনলাইনে রিয়েল টাইমে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সবকিছু ডিজিটালাইজড হয়ে গেলে কর ফাঁকি দেওয়া সহজ হবে না। ডিজিটালাইজড হলে আপনাকে সরকারি অফিসে যেতে হবে না। আমরা চাই না আপনারা সরকারি অফিসে যান, আমরা চাই আপনি বাসায় বসে অনলাইনে পারপাসটা সার্ভ করুন। তাতে দুর্নীতি কমে যাবে। যত ফিজিক্যাল কন্টাক্ট কমবে তত দুর্নীতি কমে যাবে। রোবাস্ট ইন্টারনেট সিস্টেমে আমরা যাচ্ছি।’

পুঁজিবাজার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। বড় বড় বিদেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানি আসা শুরু করেছে, তাদের ফান্ড ম্যানেজাররা আসা শুরু করেছে। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, ‘বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষ। আমরা সংখ্যার কথা বলবো, আমরা উপাত্তের কথা বলবো, আমরা অর্থ বরাদ্দের কথা বলবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে চাইবো এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতখানি সাহায্য করেছে।’ সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।

পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর ফলে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন মিডলম্যানের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করছেন, যা খরচসাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেপ্যাল চালু হলে তা সরাসরি ও কম খরচে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এটি ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে, তা দেখার বিষয় বলেও জানান তারা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


পেপ্যালসহ বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আসছে বাংলাদেশে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image
তরুণদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের জন্য বাজেটে কিছু বাকি রাখা হয়নি। সবকিছু দিয়েছি ইয়ং জেনারেশনের জন্য এই বাজেটে। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সবাইকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। টাকা-পয়সা যেটা বাইরে থেকে ইনকাম করবা, টাকা আনার যে প্ল্যাটফর্ম সেটা আমরা ওপেন করে দিয়েছি। ফর্ম আর ফিলাপ করতে হবে না। ১০ টাকা আনলে আগে ফর্ম ফিলাপ করতে হতো। আপ টু ফাইভ থাউজেন্ড ডলার ইউ ক্যান ব্রিং, কোনো ঝামেলা নাই। তারপরও ফ্রি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমাউন্ট বড় হলে হয়তো একটু জানাতে হবে। কিন্তু রেমিটেন্স প্ল্যাটফর্ম একদম ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ডে যারা প্ল্যাটফর্ম আছে, যারা ট্রানজেকশন করে, তাদের বলেছি- কাম অ্যান্ড ওপেন ইট ইন বাংলাদেশ। অনেকে আসতেছে অলরেডি। এরই মধ্যে পেপ্যাল, আরও তিন-চারটা আছে। সবাই আসছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের অপরচুনিটি আমরা ওপেন করতে চাচ্ছি,’ যোগ করেন আমির খসরু।ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিম ফ্রি করে দিয়েছি। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যত কিছু আছে সব কিছু কমিয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা ডিজিটাল দেশ হতে চাই। মুখের কথায় ডিজিটাল নয়, রিয়েল ডিজিটাল হতে চাই। পুরো দেশের পুরো বিষয়টাকে আমরা অনলাইনে রিয়েল টাইমে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সবকিছু ডিজিটালাইজড হয়ে গেলে কর ফাঁকি দেওয়া সহজ হবে না। ডিজিটালাইজড হলে আপনাকে সরকারি অফিসে যেতে হবে না। আমরা চাই না আপনারা সরকারি অফিসে যান, আমরা চাই আপনি বাসায় বসে অনলাইনে পারপাসটা সার্ভ করুন। তাতে দুর্নীতি কমে যাবে। যত ফিজিক্যাল কন্টাক্ট কমবে তত দুর্নীতি কমে যাবে। রোবাস্ট ইন্টারনেট সিস্টেমে আমরা যাচ্ছি।’পুঁজিবাজার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। বড় বড় বিদেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানি আসা শুরু করেছে, তাদের ফান্ড ম্যানেজাররা আসা শুরু করেছে। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, ‘বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষ। আমরা সংখ্যার কথা বলবো, আমরা উপাত্তের কথা বলবো, আমরা অর্থ বরাদ্দের কথা বলবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে চাইবো এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতখানি সাহায্য করেছে।’ সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর ফলে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন মিডলম্যানের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করছেন, যা খরচসাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেপ্যাল চালু হলে তা সরাসরি ও কম খরচে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এটি ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে, তা দেখার বিষয় বলেও জানান তারা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা