ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ছদ্মবেশের আড়াল

ছদ্মবেশের আড়াল

স্বামী ঘরে ঢুকেই দেখল স্ত্রী কাঁদছে। কারণ জানতে চাইলে স্ত্রী বলল, "আমাদের বাড়ির গাছটি থেকে কয়েকটা চড়ুই আমাকে দেখে ফেলেছে। অথচ তখন আমার মুখ ঢাকা ছিল না। এ কারণে আল্লাহ যদি পাকড়াও করেন, তখন আমার যে কোনো উপায় থাকবে না গো!"

স্ত্রীর সতীত্ব এবং আল্লাহভীতি দেখে খুশিতে স্বামী তার কপালে চুমু খেল এবং কাঠুরে এনে গাছটি কেটে বিক্রি করে দিল।

সপ্তাহখানেক পর কর্মস্থল থেকে স্বামী একদিন একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে দেখল, তার স্ত্রী আপন প্রেমিকের কোলে লেপটে পড়ে আছে। এতে স্বামী মর্মাহত হল কিন্তু টু শব্দটি না করে কিছু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে সে একবারে তাঁর শহর ছেড়ে চলে গেল।

বহু দূরের এক লোকালয়ে পৌঁছে দেখল, রাজপ্রাসাদের সামনে জনগণের ঢল নেমেছে। সে একজনকে জিজ্ঞেস করল, "এখানে এত মানুষ কেন?"

জবাব এলো, "সুলতানের রত্নভাণ্ডার চুরি হয়ে গেছে তাই।"

এর খানিক পর সে দেখল, রাস্তা দিয়ে বুযুর্গ মতন একজন হেঁটে যাচ্ছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়, আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে। সে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জানল, "ইনি এই শহরের সবচেয়ে বড় বুযুর্গ। পায়ের আঘাতে কোনো পিঁপড়া মারা যেতে পারে এই ভয়ে তিনি সবসময় এভাবে হাঁটেন। খুব পরহেজগার মানুষ। আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার ভয়ে তার আরো কিছু আমল দেখলে আপনি এরচেয়ে বেশি অবাক হবেন!"

একথা শুনে গৃহত্যাগী লোকটি চেঁচিয়ে উঠে বলল, "আমি চোর চিনে ফেলেছি। আমাকে সুলতানের কাছে নিয়ে চলুন।"

সে সুলতানকে বলল, "কথিত ঐ বুযুর্গই আপনার রত্নভাণ্ডার চুরি করেছে।"

এরপর দীর্ঘ তদন্তের পর গৃহত্যাগীর দাবিই সত্য প্রমাণিত হল!

সুলতান জানতে চাইল, "তুমি কী করে বুঝলে যে, সেই বুযুর্গই চোর?"

গৃহত্যাগী বলল, "যখন তুচ্ছ বিষয়েও কাউকে বড় রকমের সাধুতা যাহের করতে দেখবেন, তখন বুঝবেন—তার এই সাধুতা আসলে একটা পর্দা। যার আড়ালে সে অনেক বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকিয়ে রেখেছে।"

সুলতান গৃহত্যাগীকে পুরস্কৃত করলেন এবং তাকে নিজের সভাসদ হিসেবে নিযুক্ত করলেন। আর সেই বুযুর্গকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হলো।

গৃহত্যাগী বুঝতে পারল, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বাহ্যিক আভিজাত্য আর অন্তরের সত্যতা এক নয়। যারা অতিরিক্ত ধার্মিকতার ভান করে, তাদের থেকেই সাবধান থাকতে হয়। আর যারা প্রকৃত সৎ, তারা কখনো নিজের ভালো কাজ নিয়ে আড়ম্বর করে না।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ছদ্মবেশের আড়াল

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image
স্বামী ঘরে ঢুকেই দেখল স্ত্রী কাঁদছে। কারণ জানতে চাইলে স্ত্রী বলল, "আমাদের বাড়ির গাছটি থেকে কয়েকটা চড়ুই আমাকে দেখে ফেলেছে। অথচ তখন আমার মুখ ঢাকা ছিল না। এ কারণে আল্লাহ যদি পাকড়াও করেন, তখন আমার যে কোনো উপায় থাকবে না গো!"স্ত্রীর সতীত্ব এবং আল্লাহভীতি দেখে খুশিতে স্বামী তার কপালে চুমু খেল এবং কাঠুরে এনে গাছটি কেটে বিক্রি করে দিল।সপ্তাহখানেক পর কর্মস্থল থেকে স্বামী একদিন একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে দেখল, তার স্ত্রী আপন প্রেমিকের কোলে লেপটে পড়ে আছে। এতে স্বামী মর্মাহত হল কিন্তু টু শব্দটি না করে কিছু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে সে একবারে তাঁর শহর ছেড়ে চলে গেল।বহু দূরের এক লোকালয়ে পৌঁছে দেখল, রাজপ্রাসাদের সামনে জনগণের ঢল নেমেছে। সে একজনকে জিজ্ঞেস করল, "এখানে এত মানুষ কেন?"জবাব এলো, "সুলতানের রত্নভাণ্ডার চুরি হয়ে গেছে তাই।"এর খানিক পর সে দেখল, রাস্তা দিয়ে বুযুর্গ মতন একজন হেঁটে যাচ্ছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়, আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে। সে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জানল, "ইনি এই শহরের সবচেয়ে বড় বুযুর্গ। পায়ের আঘাতে কোনো পিঁপড়া মারা যেতে পারে এই ভয়ে তিনি সবসময় এভাবে হাঁটেন। খুব পরহেজগার মানুষ। আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার ভয়ে তার আরো কিছু আমল দেখলে আপনি এরচেয়ে বেশি অবাক হবেন!"একথা শুনে গৃহত্যাগী লোকটি চেঁচিয়ে উঠে বলল, "আমি চোর চিনে ফেলেছি। আমাকে সুলতানের কাছে নিয়ে চলুন।"সে সুলতানকে বলল, "কথিত ঐ বুযুর্গই আপনার রত্নভাণ্ডার চুরি করেছে।"এরপর দীর্ঘ তদন্তের পর গৃহত্যাগীর দাবিই সত্য প্রমাণিত হল!সুলতান জানতে চাইল, "তুমি কী করে বুঝলে যে, সেই বুযুর্গই চোর?"গৃহত্যাগী বলল, "যখন তুচ্ছ বিষয়েও কাউকে বড় রকমের সাধুতা যাহের করতে দেখবেন, তখন বুঝবেন—তার এই সাধুতা আসলে একটা পর্দা। যার আড়ালে সে অনেক বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকিয়ে রেখেছে।"সুলতান গৃহত্যাগীকে পুরস্কৃত করলেন এবং তাকে নিজের সভাসদ হিসেবে নিযুক্ত করলেন। আর সেই বুযুর্গকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হলো।গৃহত্যাগী বুঝতে পারল, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বাহ্যিক আভিজাত্য আর অন্তরের সত্যতা এক নয়। যারা অতিরিক্ত ধার্মিকতার ভান করে, তাদের থেকেই সাবধান থাকতে হয়। আর যারা প্রকৃত সৎ, তারা কখনো নিজের ভালো কাজ নিয়ে আড়ম্বর করে না।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা