ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ ১৫ আসামি, ৮ জন গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ ১৫ আসামি, ৮ জন গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া (১৪) হত্যা মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার নিহত মারিয়ার মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ (১৬), তার মা রুমা (৪৫), বোন মিম (২২), সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামসহ (৫৯) ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলিফ, মাসুদ (৩৫), সুজন (৩০), রাসেল (৩০), রুমা, মিম, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এবং আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লা (২৯)। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা নেয়। পরে দুই শিক্ষার্থীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়। একই দিন মারিয়া বাড়িতে নিজের মোবাইল ফোন রেখে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপে স্থানীয়রা একটি স্কুলব্যাগ দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা খোঁজ নিয়ে সেখানে মারিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, মারিয়া হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মারিয়াকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পরই মূলত তার ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মারিয়া বাড়ি ফিরে এসে পরিবারকে জানায় যে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক তাকে হুমকি দিয়েছেন। এরপরই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিচার বহির্ভূত শাস্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মারিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলবে। উল্লেখ্য, মারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় সিংগাইর উপজেলা ও মানিকগঞ্জ জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। নারী সংগঠন ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো এই হত্যার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ ১৫ আসামি, ৮ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া (১৪) হত্যা মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার নিহত মারিয়ার মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ (১৬), তার মা রুমা (৪৫), বোন মিম (২২), সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামসহ (৫৯) ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলিফ, মাসুদ (৩৫), সুজন (৩০), রাসেল (৩০), রুমা, মিম, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এবং আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লা (২৯)। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা নেয়। পরে দুই শিক্ষার্থীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়। একই দিন মারিয়া বাড়িতে নিজের মোবাইল ফোন রেখে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।পরে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপে স্থানীয়রা একটি স্কুলব্যাগ দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা খোঁজ নিয়ে সেখানে মারিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, মারিয়া হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মারিয়াকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পরই মূলত তার ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মারিয়া বাড়ি ফিরে এসে পরিবারকে জানায় যে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক তাকে হুমকি দিয়েছেন। এরপরই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিচার বহির্ভূত শাস্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মারিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলবে। উল্লেখ্য, মারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় সিংগাইর উপজেলা ও মানিকগঞ্জ জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। নারী সংগঠন ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো এই হত্যার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা