নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটি শেষপর্যন্ত হয়েছে ‘দেম্বেলে শো’। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় ইনজুরি ও অফ ফর্মের কারণে তেমন পারফরম্যান্স করতে পারেননি ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড। তবে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পাশাপাশি গত আসরে ব্যালন ডি’অরও জিতেন। কিন্তু বিশ্বকাপে সেই নজরকাড়া পারফরম্যান্সের দেখা মিলছিল না। গ্রুপ তৃতীয় ম্যাচে অবশেষে দেখা মিলল দেম্বেলের সেরাটা। নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সও জিতল ৪-১ গোলে।
নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত হওয়ায় বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে শুক্রবার এই দুই দলের খেলা ছিল আই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ফ্রান্স দলের কোচ দিদিয়ের দেশমের মায়ের মৃত্যুর কারণে আজ সেই ভার চাপে ফরাসিদের সহকারী কোচের কাঁধে। গ্রুপ পর্বে অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচও ছিল এটি। কারণ, ফ্রান্স দলে যেমন আছেন সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এমবাপ্পে, দেম্বেল; অন্যদিকে নরওয়ে দলে আছেন গোলমেশিন হলান্ড ও ওডেগার্ড। ম্যাচটি আলোচিত ছিল এমবাপ্পে ও হলান্ডের লড়াই দেখার জন্য। তবে, এদিন নরওয়ের একাদশেই ছিলেন না হলান্ড। এমবাপ্পে-হলান্ড দ্বৈরথ দেখা গেলেও আফসোস থাকার কথা নয় দর্শকদের। কারণ একটাই, ওসমান দেম্বেলে।
ম্যাচের শুরুতেই ফরাসি এই উইঙ্গার ডান প্রান্তে নরওয়ের লেফট-ব্যাক ফ্রেডরিককে একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিংয়ে যেভাবে পরাস্ত করেন তা দেখেই চোখ জুড়ায়। এরপর ম্যাচের ৭ম মিনিটে এমবাপ্পের বাড়ানো পাসে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন দেম্বেল। ২০ মিনিটে ফের হাজির দেম্বেলে। ডি-বক্সের বাইরে নরওয়ের রক্ষণভাগ যখন দেম্বেলের ডান পা ব্লকের পজিশন নিচ্ছিল, ঠিক তখন নিজের ‘অ্যাম্বিডেক্সট্রাস’ (দুই পায়েই সমান দক্ষ) ক্ষমতা ব্যবহার করেন এই ফরোয়ার্ড। বাম পায়ের বাঁকানো শটে বল জড়ান জালে।
টানা দুই গোল হজম করলেও পরের মিনিটেই একটি শোধ দেয় নরওয়ে। মাঝমাঠের এক দারুণ ট্রানজিশন থেকে অসগার্ড হাই-স্পিড রানে বক্সে ঢুকে শট নিয়ে দলের ব্যবধান কমান। অসগার্ডের এই গোল নরওয়েকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, ৩২ মিনিটে দেম্বেলের তৃতীয় ও হ্যাটট্রিক গোল তাঁদের ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। এটি দেম্বেলের জাতীয় দলের হয়ে ১১তম গোল। ওডেগার্ড ও হলান্ডকে ছাড়া নরওয়ের আক্রমণভাগে বল হোল্ড করে ট্রানজিশন পিরিয়ডের ফায়দা নিতে ব্যর্থ হচ্ছিল। ৩-১ গোলের ব্যাবধানে বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে একটি পেনাল্টি পায়। কিন্তু লারসেনের পেনাল্টি গোলরক্ষক মাইক মাইনোকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন। এরপর নরওয়েজিয়ান শিবিরের শরীরী ভাষায় হতাশার স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। অন্যদিকে পেনাল্টি বাঁচানোর পর ফ্রান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯০+৪ মিনিটে) নরওয়ের জালে চতুর্থ পেরেকটি ঠোকেন দেসিরে দুয়ে। এই জয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে ফ্রান্স ও গ্রুপ রানারআপ হয়ে নরওয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেল।
ম্যাচ শেষে দেম্বেল বলেন, ‘আমি জানতাম আমার ফর্ম ফিরে আসবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করা স্পেশাল। দলের জন্য খুশি যে আমরা গ্রুপ সেরা হয়েছি।’ ফ্রান্সের সহকারী কোচ বলেন, ‘দেম্বেলে আজ অন্যরকম ছিল। তার পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।’ নরওয়ের কোচ বলেন, ‘হলান্ডকে ছাড়া খেলা কঠিন ছিল। দেম্বেলকে থামানো গেল না। তবুও আমরা নকআউটে উঠেছি, সামনে ভালো করব।’ ফ্রান্স এখন নকআউটে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষের জন্য অপেক্ষা করছে। দেম্বেলের এই ফর্ম তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও বাস্তব করে তুলেছে। ফুটবল বিশ্ব এখন এই ফরাসি উইঙ্গারের পারফরম্যান্সের জন্য উন্মুখ।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন