ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

সাঈদী মামলার সাক্ষী অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

সাঈদী মামলার সাক্ষী অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজলুর রহমান। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণের শিকার হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালি। পরে তাকে ভারতে খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে সুখরঞ্জন বালির অপহরণের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছিল। ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে ফজলুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি অপহরণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অপহরণে সহায়তা করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় ফজলুর রহমানের সরাসরি ভূমিকা ছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছি।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুখরঞ্জন বালি ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। পরে দীর্ঘদিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২০১৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তাকে জোর করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয় এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার হলেন। এখন দেখার বিষয়, এই মামলায় আর কারা জড়িত এবং তাদের কী শাস্তি হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণের মতো ঘটনার বিচার করা অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা করেন, এই মামলার মাধ্যমে অপহরণের নেপথ্যে যারা ছিল তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, সুখরঞ্জন বালি এখন নিরাপদে আছেন এবং তিনি এই গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে।’ সাবেক এএসপি ফজলুর রহমানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার আরও তদন্ত করবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সুখরঞ্জন বালি অপহরণ মামলায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন। তারা চান, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক ও তৎপর হতে হবে। অন্যথায় সাক্ষীরা ভয় পাবেন এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হবে। এই মামলার রায় সবার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি জানা যাবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সবাই। অপহরণ ও সাক্ষীদের ওপর হামলা একটি গুরুতর অপরাধ, এবং এর বিচার হওয়া উচিত। পুলিশ ও আদালতের ওপর জনগণের আস্থা রয়েছে যে, তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, এই পরীক্ষায় তারা কতটা সফল হয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


সাঈদী মামলার সাক্ষী অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজলুর রহমান। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণের শিকার হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালি। পরে তাকে ভারতে খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে সুখরঞ্জন বালির অপহরণের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছিল। ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে ফজলুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি অপহরণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অপহরণে সহায়তা করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণের ঘটনায় ফজলুর রহমানের সরাসরি ভূমিকা ছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছি।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।সুখরঞ্জন বালি ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। পরে দীর্ঘদিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২০১৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তাকে জোর করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয় এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার হলেন। এখন দেখার বিষয়, এই মামলায় আর কারা জড়িত এবং তাদের কী শাস্তি হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণের মতো ঘটনার বিচার করা অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা করেন, এই মামলার মাধ্যমে অপহরণের নেপথ্যে যারা ছিল তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, সুখরঞ্জন বালি এখন নিরাপদে আছেন এবং তিনি এই গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে।’ সাবেক এএসপি ফজলুর রহমানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার আরও তদন্ত করবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সুখরঞ্জন বালি অপহরণ মামলায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন। তারা চান, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক ও তৎপর হতে হবে। অন্যথায় সাক্ষীরা ভয় পাবেন এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হবে। এই মামলার রায় সবার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি জানা যাবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সবাই। অপহরণ ও সাক্ষীদের ওপর হামলা একটি গুরুতর অপরাধ, এবং এর বিচার হওয়া উচিত। পুলিশ ও আদালতের ওপর জনগণের আস্থা রয়েছে যে, তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, এই পরীক্ষায় তারা কতটা সফল হয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা