দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে নেত্রকোনায় সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, দেশের এক ইঞ্চি ভূমির ওপরও কাউকে আগ্রাসন চালাতে দেওয়া হবে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা এক ইঞ্চিও ছাড় দেব না। জামায়াত আমির বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রয়েছে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে শুধু বিজিবি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকও দেশপ্রেম নিয়ে সীমান্তে দাঁড়াবে। বিজিবি থাকবে অস্ত্র নিয়ে, আর জনগণ থাকবে দেশপ্রেম নিয়ে।
ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সীমান্ত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, জামায়াতের ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়াতে জনগণেরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো দেশই আমাদের স্বাধীনতা হরণ করতে পারবে না এবং আমরা কাউকে আমাদের মাটিতে পা রাখতে দেব না। তার এই বক্তব্য সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত। নেত্রকোনার সার্কিট হাউজে এই মতবিনিময় সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে এই বক্তব্য সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। তার এই অবস্থান বিরোধী দলকে একটি শক্তিশালী জাতীয় অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন