যুক্তরাজ্য সরকার শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারে নতুন জাতীয় নির্দেশনা জারি করেছে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ স্ক্রিন নিষিদ্ধ এবং ২ থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় একা স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে খাবারের সময় ও ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার না করতে। শিশুদের সঙ্গে বসে বয়স উপযোগী ও ধীরগতির কনটেন্ট দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, “আমার সরকার অভিভাবকদের একা এই লড়াইয়ে ফেলে রাখবে না। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে পরিবারগুলোকে স্পষ্ট ও সাধারণ জ্ঞানের ভিত্তিতে নির্দেশনা দেওয়া জরুরি।”
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনে ২ বছরের শিশুদের ৯৮ শতাংশ প্রতিদিন স্ক্রিন ব্যবহার করে এবং ৩ থেকে ৫ বছরের শিশুদের এক-চতুর্থাংশের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দ্রুতগতির ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো কনটেন্ট শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্ক্রিনভিত্তিক সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।
শিশুদের অনলাইন ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করছে। ইন্দোনেশিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য রব্লক্স নিষিদ্ধ করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা, রাতের কারফিউ এবং এআই চ্যাটবট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়েও ভাবছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের এই নির্দেশনা শিশুদের প্রাথমিক বয়সে ডিজিটাল অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় অভিভাবকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন