গণবার্তা

টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ মিস করল ইতালি, বসনিয়ার বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গ

টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ মিস করল ইতালি, বসনিয়ার বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গ

একসময় বিশ্বফুটবলে দাপটের প্রতীক ছিল ইতালি। চারবার বিশ্বকাপ জেতা সেই দলটিই এখন নিজের অস্তিত্বের সংকটে। মঙ্গলবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকিট আদায়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল আজ্জুরিদের। ২০১৪ সালের পর টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাইরে থাকল ইতালি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইতালিকে চাপে রাখে বসনিয়া। লম্বা ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে অসহায় দেখায় ইতালির ফুটবলারদের। মাঝমাঠে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা। একসময় জেনারো গাত্তুসো, আন্দ্রে পিরলোদের হাতে সেই জায়গাটি ছিল অপ্রতিরোধ্য।

ইতালীয় ফুটবলের শিকড়ে এখন সমস্যা। সিরি এ ক্লাবগুলো তরুণদের তুলনায় অভিজ্ঞ ও বিদেশি ফুটবলারদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। ফলে নতুন প্রতিভারা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত সুযোগ। স্টেডিয়াম ও ফুটবল একাডেমিতে বিনিয়োগেও পিছিয়ে ইতালি।

দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আধুনিক ফুটবলে মানিয়ে নিতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছে দল। নির্দিষ্ট কৌশল ধরে রাখতে না পারায় ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধেও আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ তারা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ও বয়স্ক খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। গতি ও ফিটনেসের ঘাটতি স্পষ্ট।

একসময় ইতালি মানেই বিশ্বমানের প্রতিভার আধার ছিল। পাওলো মালদিনি, ফ্রাঙ্কো বারেসি, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জিয়ানলুইগি বুফোন—কে না এই নাম জানে। বর্তমান প্রজন্মের সান্দ্রো তোনালি খেলছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডে, যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইতিহাস নেই। আলেসান্দ্রো বাস্তোনির মতো প্রতিভা থাকলেও বড় ম্যাচে তারা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেন না। স্ট্রাইকার সংকট তো আছেই।

বসনিয়ার বিপক্ষে এই হার ইতালির জন্য শুধু বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া নয়, পুরো কাঠামোর দুর্বলতারই ইঙ্গিত। এখন প্রশ্ন, ইতালিয়ান ফুটবল কোন পথে হাঁটবে। উত্তর দিতে হবে ক্লাব ও ফেডারেশন মিলে। সময় কমছে না, প্রতিযোগিতার বাইরে থাকার স্মৃতি প্রতিবছরই যেন ভারি হচ্ছে।

বিষয় : ইতালি বসনিয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ মিস করল ইতালি, বসনিয়ার বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গ

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
একসময় বিশ্বফুটবলে দাপটের প্রতীক ছিল ইতালি। চারবার বিশ্বকাপ জেতা সেই দলটিই এখন নিজের অস্তিত্বের সংকটে। মঙ্গলবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকিট আদায়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল আজ্জুরিদের। ২০১৪ সালের পর টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাইরে থাকল ইতালি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইতালিকে চাপে রাখে বসনিয়া। লম্বা ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে অসহায় দেখায় ইতালির ফুটবলারদের। মাঝমাঠে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা। একসময় জেনারো গাত্তুসো, আন্দ্রে পিরলোদের হাতে সেই জায়গাটি ছিল অপ্রতিরোধ্য।ইতালীয় ফুটবলের শিকড়ে এখন সমস্যা। সিরি এ ক্লাবগুলো তরুণদের তুলনায় অভিজ্ঞ ও বিদেশি ফুটবলারদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। ফলে নতুন প্রতিভারা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত সুযোগ। স্টেডিয়াম ও ফুটবল একাডেমিতে বিনিয়োগেও পিছিয়ে ইতালি।দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আধুনিক ফুটবলে মানিয়ে নিতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছে দল। নির্দিষ্ট কৌশল ধরে রাখতে না পারায় ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধেও আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ তারা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ও বয়স্ক খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। গতি ও ফিটনেসের ঘাটতি স্পষ্ট।একসময় ইতালি মানেই বিশ্বমানের প্রতিভার আধার ছিল। পাওলো মালদিনি, ফ্রাঙ্কো বারেসি, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জিয়ানলুইগি বুফোন—কে না এই নাম জানে। বর্তমান প্রজন্মের সান্দ্রো তোনালি খেলছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডে, যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইতিহাস নেই। আলেসান্দ্রো বাস্তোনির মতো প্রতিভা থাকলেও বড় ম্যাচে তারা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেন না। স্ট্রাইকার সংকট তো আছেই।বসনিয়ার বিপক্ষে এই হার ইতালির জন্য শুধু বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া নয়, পুরো কাঠামোর দুর্বলতারই ইঙ্গিত। এখন প্রশ্ন, ইতালিয়ান ফুটবল কোন পথে হাঁটবে। উত্তর দিতে হবে ক্লাব ও ফেডারেশন মিলে। সময় কমছে না, প্রতিযোগিতার বাইরে থাকার স্মৃতি প্রতিবছরই যেন ভারি হচ্ছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা