নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই স্কোয়াডে কোনো চমক রাখেননি নির্বাচকরা। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের দলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিউইদের বিপক্ষে অপরিবর্তিত দল রাখার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, কাউকে পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়ে বাদ দেবে না বর্তমান নির্বাচক প্যানেল।
সবশেষ পাকিস্তান সিরিজের তিনটি ওয়ানডেতেই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। যার কারণে শরীফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, তানভীর ইসলাম, সৌম্য সরকারদের বেঞ্চে বসেই সিরিজ কাটাতে হয়েছে।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, আমাদের সবশেষ সিরিজটা (পাকিস্তান সিরিজ) বেশ সফল হয়েছিল। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে। সেখানে কিছু খেলোয়াড় হয়তো একাদশে সুযোগ পাননি। আবার কিছু ক্রিকেটার নতুন এসেছেন। আমাদের পলিসি হলো যখন কেউ আসবে, তাকে যেন পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে পারি।’
কাউকে সুযোগ না দিয়ে বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী নন নাঈম ইসলাম, হাবিবুল বাশার সুমন, নাদিফ চৌধুরী, হাসিবুল হাসান শান্তর নির্বাচক প্যানেল। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘কাউকে সুযোগ না দিয়ে দল থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা না। যারা খেলেছেন, তারা খারাপ খেলেননি, বরং ভালোই খেলেছেন। আমরা দলের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করতে চাই, তাই পরিবর্তন করিনি।’
শনিবার (১১ এপ্রিল) দল ঘোষণার সময় সাকিব আল হাসানকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমার সঙ্গে সাকিবের একবার কথা হয়েছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম প্রস্তুত আছে কি না, যেহেতু ও যেখানে আছে সেখানে নিয়মিত ক্রিকেট হয় না বা ট্রেনিংয়ের সুযোগ নেই। ফিটনেস নিয়ে কাজ হতে পারে, তবে সেখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। যদিও সে ক্রিকেট খেলছে।’
সাকিবকে দীর্ঘমেয়াদে পাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক আরও বলেন, ‘সব যদি ঠিকঠাক থাকে, সাকিবকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই। এটাই আলাপ হয়েছে যে সে কতখানি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক কিছু লাগে, এর মধ্যে প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
২০২৪ সালে সবশেষ জাতীয় দলে খেলেছেন সাকিব আল হাসান। রাজনৈতিক ও আইনগত কারণে এরপর আর লাল-সবুজ জার্সিতে খেলতে পারেননি সাবেক এই টাইগার অধিনায়ক। এরপর নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন তিনি। তবে এবারের পিএসএলেও দল পাননি সাকিব।
আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। ১৭ ও ২০ এপ্রিল সফরের প্রথম দুই ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এরপর চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ২৩ এপ্রিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলবে দুই দল।
চট্টগ্রামেই টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ২ মে মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ও বোলিং বিভাগ কেমন পারফর্ম করে, সেটাই দেখার বিষয়। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ জিততে চায় টাইগাররা।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন