ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
গণবার্তা

জুলাই আন্দোলনে ‘লেথাল ওয়েপনে সোজা গুলির’ নির্দেশ শেখ হাসিনার: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই আন্দোলনে ‘লেথাল ওয়েপনে সোজা গুলির’ নির্দেশ শেখ হাসিনার: চিফ প্রসিকিউটর
গণবার্তা । গ্রাফিক্স

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করে ‘সোজা গুলি’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে—শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনে এমন নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। সবচেয়ে আবেগের জায়গা হচ্ছে ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডে আবেগাপ্লুত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।’

মাসুদ উদ্দিন ‘এক-এগারোর মহানায়ক’

এক-এগারোর সরকারের সময় যেসব অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর নেপথ্যে মহানায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘এক-এগারোর যে সরকারটি ছিল, সেখানে মাসুদ উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে “ডিফ্যাক্টো গভর্মেন্ট” (কার্যত সরকার) বলা হতো। পুরো সরকারটাই তারা চালাতেন। সেই কারণে তখনকার সময়ে যেসব অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি (মাসুদ উদ্দিন)।’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক-এগারোর সময়কার অভিযোগ আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতা আছে। শেখ হাসিনার অনেক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, মাসুদ উদ্দিনকে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো তারা যাচাই–বাছাই করছেন। প্রয়োজন হলে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই দিন তাকে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মোহাম্মদপুর মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপন্সিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগামী ৮ জুন থেকে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১০ মে ২০২৬


জুলাই আন্দোলনে ‘লেথাল ওয়েপনে সোজা গুলির’ নির্দেশ শেখ হাসিনার: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করে ‘সোজা গুলি’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এ মন্তব্য করেন তিনি।এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে—শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনে এমন নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে।’আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।’তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। সবচেয়ে আবেগের জায়গা হচ্ছে ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডে আবেগাপ্লুত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।’মাসুদ উদ্দিন ‘এক-এগারোর মহানায়ক’এক-এগারোর সরকারের সময় যেসব অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর নেপথ্যে মহানায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘এক-এগারোর যে সরকারটি ছিল, সেখানে মাসুদ উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে “ডিফ্যাক্টো গভর্মেন্ট” (কার্যত সরকার) বলা হতো। পুরো সরকারটাই তারা চালাতেন। সেই কারণে তখনকার সময়ে যেসব অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, এগুলোর নেপথ্যে মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি (মাসুদ উদ্দিন)।’চিফ প্রসিকিউটর জানান, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক-এগারোর সময়কার অভিযোগ আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতা আছে। শেখ হাসিনার অনেক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে বলে জানান তিনি।তিনি আরও জানান, মাসুদ উদ্দিনকে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো তারা যাচাই–বাছাই করছেন। প্রয়োজন হলে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই দিন তাকে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।চিফ প্রসিকিউটর জানান, মোহাম্মদপুর মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপন্সিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগামী ৮ জুন থেকে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা