ঢাকা    শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
গণবার্তা

১৫০ বছরের পুরাতন পৌরসভা এখন বগুড়া সিটি করপোরেশন

১৫০ বছরের পুরাতন পৌরসভা এখন বগুড়া সিটি করপোরেশন

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়া অবশেষে সিটি করপোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা এখন দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনে রূপ নিল। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটে। এ খবরে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

গেজেটে যা বলা হয়েছে

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গেজেটে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩(৩) অনুযায়ী বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা যুক্ত করে নতুন এ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। নতুন সিটি করপোরেশনের সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাসও নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়ার্ড ও আওতাধীন এলাকা

নতুন সিটি করপোরেশনে মোট ২১টি ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। এতে বগুড়া পৌর এলাকার পাশাপাশি সদর উপজেলা ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফুলবাড়ি, নিশিন্দারা, কাটনারপাড়া, সুত্রাপুর, চকবৃন্দাবন, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, গাড়ামাড়া, মালতিনগর, লতিফপুর, ফুলদীঘি, বেতগাড়ীসহ আরও কয়েকটি অঞ্চল।

জনমত গ্রহণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এর আগে সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করা হয়। পরে মতামত ও প্রশাসনিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের আশা

স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন এ প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে নগদ ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবিতে আলোচনা চলছিল।

মেয়র পদে দৌড়ঝাঁপ শুরু

দেশের ১৩তম বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই এর প্রশাসক বা মেয়র হওয়ার জন্য বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১০ জন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বা তাদের সমর্থকদের মাধ্যমে সিটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার টানিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পত্রিকায় সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করাচ্ছেন। ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা

সম্ভাব্য প্রশাসক বা মেয়র হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে—

  • অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান (বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য)

  • সাইফুল ইসলাম (জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)

  • জয়নাল আবেদীন চাঁন (জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক)

  • ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল

  • আলী আজগর তালুকদার হেনা

  • হামিদুল হক চৌধুরী হিরু (জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি)

  • কেএম খায়রুল বাশার (জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক)

  • জাহাঙ্গীর আলম (জেলা যুবদলের সভাপতি)

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীও বগুড়া সিটিতে এককভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে কার ভাগ্যে এই সম্মানজনক পদটি অপেক্ষা করছে, তা কেবল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন।

বিষয় : বগুড়া সিটি কর্পোরেশন

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


১৫০ বছরের পুরাতন পৌরসভা এখন বগুড়া সিটি করপোরেশন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়া অবশেষে সিটি করপোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা এখন দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনে রূপ নিল। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটে। এ খবরে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।গেজেটে যা বলা হয়েছেরাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গেজেটে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩(৩) অনুযায়ী বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা যুক্ত করে নতুন এ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। নতুন সিটি করপোরেশনের সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাসও নির্ধারণ করা হয়েছে।ওয়ার্ড ও আওতাধীন এলাকানতুন সিটি করপোরেশনে মোট ২১টি ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। এতে বগুড়া পৌর এলাকার পাশাপাশি সদর উপজেলা ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফুলবাড়ি, নিশিন্দারা, কাটনারপাড়া, সুত্রাপুর, চকবৃন্দাবন, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, গাড়ামাড়া, মালতিনগর, লতিফপুর, ফুলদীঘি, বেতগাড়ীসহ আরও কয়েকটি অঞ্চল।জনমত গ্রহণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তএর আগে সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করা হয়। পরে মতামত ও প্রশাসনিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের আশাস্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন এ প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে নগদ ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবিতে আলোচনা চলছিল।মেয়র পদে দৌড়ঝাঁপ শুরুদেশের ১৩তম বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই এর প্রশাসক বা মেয়র হওয়ার জন্য বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১০ জন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বা তাদের সমর্থকদের মাধ্যমে সিটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার টানিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পত্রিকায় সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করাচ্ছেন। ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন।সম্ভাব্য প্রার্থীরাসম্ভাব্য প্রশাসক বা মেয়র হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে—অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান (বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য)সাইফুল ইসলাম (জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)জয়নাল আবেদীন চাঁন (জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক)ফজলুল বারী তালুকদার বেলালআলী আজগর তালুকদার হেনাহামিদুল হক চৌধুরী হিরু (জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি)কেএম খায়রুল বাশার (জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক)জাহাঙ্গীর আলম (জেলা যুবদলের সভাপতি)এছাড়া জামায়াতে ইসলামীও বগুড়া সিটিতে এককভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে কার ভাগ্যে এই সম্মানজনক পদটি অপেক্ষা করছে, তা কেবল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা