ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ২০২৭ সালের মধ্যে

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ২০২৭ সালের মধ্যে

আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার যৌথ বিনিয়োগ আহ্বান করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই সমঝোতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও দূরদর্শী চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষই তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

এ ছাড়া, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সুগম করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শক্তি এবং অবকাঠামো খাতের মতো উচ্চ-মূল্যবান শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় শক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারককে পূর্ণ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর (Renewable Energy Transition) খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমবাজার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতি। আমরা এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চাই। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে আমাদের সহযোগিতা বাড়বে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, হালাল পণ্য ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে মালয়েশিয়ার বাজার উন্মোচিত হবে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বঙ্গোপসাগরের অপার সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত অনুসন্ধান কাজ শুরু করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় অগ্রগতি হবে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয় কিনা এবং বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ কত দ্রুত শুরু হয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ২০২৭ সালের মধ্যে

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image
আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার যৌথ বিনিয়োগ আহ্বান করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই সমঝোতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও দূরদর্শী চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষই তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।এ ছাড়া, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সুগম করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শক্তি এবং অবকাঠামো খাতের মতো উচ্চ-মূল্যবান শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় শক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারককে পূর্ণ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর (Renewable Energy Transition) খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমবাজার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতি। আমরা এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চাই। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে আমাদের সহযোগিতা বাড়বে।’বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, হালাল পণ্য ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে মালয়েশিয়ার বাজার উন্মোচিত হবে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বঙ্গোপসাগরের অপার সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত অনুসন্ধান কাজ শুরু করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় অগ্রগতি হবে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয় কিনা এবং বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ কত দ্রুত শুরু হয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা