ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

সংসারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির সামনে অনশনে ইন্টার্ন চিকিৎসক

সংসারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির সামনে অনশনে ইন্টার্ন চিকিৎসক

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পুটিয়া এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও স্বামীর বাড়িতে সংসার করার দাবিতে অনশনে বসেছেন এমবিবিএস (ইন্টার্ন) চিকিৎসক ডা. বন্যা মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্বামী এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. শতদল মন্ডলের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।

অনশনরত ডা. বন্যা মজুমদারের অভিযোগ, তার স্বামী ডা. শতদল মন্ডলের সঙ্গে তার আপন বৌদির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ ছড়ানো হয় এবং বিয়ের স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

ডা. বন্যা মজুমদার জানান, তিনি কোনো সংঘাত চান না। সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান ও অনশন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি চিকিৎসক, পেশাগতভাবে মানুষকে সুস্থ করি। কিন্তু নিজের সংসারটাই আজ ধ্বংসের মুখে। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য কালিপদ বিশ্বাস বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ডা. বন্যা মজুমদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই শতদলের সঙ্গে বন্যার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ স্থানীয়দের ভাষ্য, ডা. বন্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হলেও তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। মেয়ের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শতদল মন্ডল বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনশনে বসেছে, বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে আমার আইনজীবীর পরামর্শে কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না।’ তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শতদল মন্ডল বর্তমানে বাড়িতে নেই এবং তার পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ডা. বন্যার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে অনশন প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ডা. বন্যা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সুশীল সমাজের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তারা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, একজন চিকিৎসককে এভাবে অনশন করতে বাধ্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা উভয় পক্ষকে বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা ঘটনাটি জানতে পেরেছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি। প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে।’

ডা. বন্যা মজুমদারের অনশন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একজন লেখেছেন, ‘একজন নারী চিকিৎসক, যিনি সমাজের সেবা করেন, তাকে নিজের অধিকার আদায়ে অনশন করতে হচ্ছে—এটি বাস্তবিকই লজ্জাজনক।’

এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এই সংকটের সমাধান করতে পারে এবং ডা. বন্যা তার দাবি আদায়ে সক্ষম হন কিনা। আপাতত তিনি স্বামীর বাড়ির সামনে অনশন অব্যাহত রেখেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


সংসারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির সামনে অনশনে ইন্টার্ন চিকিৎসক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পুটিয়া এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও স্বামীর বাড়িতে সংসার করার দাবিতে অনশনে বসেছেন এমবিবিএস (ইন্টার্ন) চিকিৎসক ডা. বন্যা মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্বামী এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. শতদল মন্ডলের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।অনশনরত ডা. বন্যা মজুমদারের অভিযোগ, তার স্বামী ডা. শতদল মন্ডলের সঙ্গে তার আপন বৌদির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ ছড়ানো হয় এবং বিয়ের স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।ডা. বন্যা মজুমদার জানান, তিনি কোনো সংঘাত চান না। সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান ও অনশন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি চিকিৎসক, পেশাগতভাবে মানুষকে সুস্থ করি। কিন্তু নিজের সংসারটাই আজ ধ্বংসের মুখে। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।’স্থানীয় ইউপি সদস্য কালিপদ বিশ্বাস বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ডা. বন্যা মজুমদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই শতদলের সঙ্গে বন্যার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ স্থানীয়দের ভাষ্য, ডা. বন্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হলেও তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। মেয়ের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শতদল মন্ডল বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনশনে বসেছে, বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে আমার আইনজীবীর পরামর্শে কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না।’ তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শতদল মন্ডল বর্তমানে বাড়িতে নেই এবং তার পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ডা. বন্যার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে অনশন প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ডা. বন্যা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।এদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সুশীল সমাজের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তারা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, একজন চিকিৎসককে এভাবে অনশন করতে বাধ্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সমাজের জন্য লজ্জাজনক।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা উভয় পক্ষকে বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা ঘটনাটি জানতে পেরেছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি। প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে।’ডা. বন্যা মজুমদারের অনশন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একজন লেখেছেন, ‘একজন নারী চিকিৎসক, যিনি সমাজের সেবা করেন, তাকে নিজের অধিকার আদায়ে অনশন করতে হচ্ছে—এটি বাস্তবিকই লজ্জাজনক।’এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এই সংকটের সমাধান করতে পারে এবং ডা. বন্যা তার দাবি আদায়ে সক্ষম হন কিনা। আপাতত তিনি স্বামীর বাড়ির সামনে অনশন অব্যাহত রেখেছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা